তেপান্তর রিপোর্ট: আখাউড়া পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু সড়ক ও উপ-সড়কে দীর্ঘদিন যাবৎ বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।বিশেষ করে পৌর এলাকার বাইপাস বঙ্গবন্ধু স্কয়ার থেকে খরমপুর মাজার গেইট হয়ে আজমপুর রেলক্রসিং পর্যন্ত অংশের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টির পরেই মনে হয় রাস্তাগুলো যেন ধান বোনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আর আবহাওয়া শুষ্ক থাকলে মাত্রাতিরিক্ত ধূলো আর অসংখ্য গর্তের কারনে সড়কের বর্তমান অবস্থা এতই খারাপ যে যানবাহন দিয়ে চলাচল দূরের কথা হেঁটে চলাচল করার সাহস হারিয়ে ফেলছে পথচারীরা।তবে অবাক করা কথা হচ্ছে,আখাউড়া পৌরসভা এবং জেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিকে একে অপরের মালিকানাধীন বলে দাবি করেছেন।
আখাউড়ার পৌর মেয়র বলছেন এই সড়কটির মালিক এলজিইডি, সুতরাং সংস্কার করার দায়িত্বটাও তাদেরই। আর এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়কটি তাদের আওতায় আছে নাকি পৌরসভার মালিকানাধীন সেটা ম্যাপ দেখে বলা যাবে।
সড়কের মালিকানা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বিধার কারনে দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে।
মাজার এলাকার সড়কটিসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও উপ-সড়কের বেহাল অবস্থা সম্পর্কে পৌরবাসী ও খরমপুর মাজারে আগত ভক্তবৃন্দরা ক্ষোভের সঙ্গে যা বলছেন তার সারাংশ হচ্ছে,পৌরসভার প্রধান সড়কগুলোর নীরব কান্না কেউই শুনছে না। নিরবে-নিভৃতে কাদঁছে শহর ও পৌর এলাকার সড়কগুলো। সংস্কারের অভাবে সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে পিচের আস্তরণ ও ইটের খোয়া উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারনে প্রতিদিন অসখ্য ছোট বড়ো গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
ক্ষত-বিক্ষত রাস্তা যেন এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তার অবস্থা দেখে স্থানীয়রা কোমরে হাত দিয়ে দীর্ঘ নি:শ্বাস ফেলে সিদ্ধান্ত নেয় কোন পাশ দিয়ে হাঁটা যাবে।
রাস্তার বেহাল দশা সম্পর্কে আখাউড়ার সড়কবাজার এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া বলেন, ‘ বর্তমান মেয়র টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছেন। উনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় আইনমন্ত্রীর স্নেহধন্য বলে সবাই জানেন। কিন্তু কসবা পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের তুলনায় আখাউড়ার রাস্তাঘাট দেখলে মনে হয় এই শহরের বোধহয় কোন অবিভাবকই নেই।’

খরমপুর মাজার এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘ প্রতি মাসে লক্ষাধিক মুরীদ ও ভক্তবৃন্দ দেশবিখ্যাত মাজার খাজা গেছুদারাজ (কল্লা শহীদ) এর দরবার শরীফ জিয়ারত করে থাকেন।এছাড়াও আখাউড়া আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করতে প্রতিদিন সহস্রাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে আখাউড়া পৌর শহর এলাকায়। কেল্লা বাবার মাজার এলাকা হিসেবে খ্যাত এই এলাকার সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ।গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় বেহাল সড়কের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না।’
দীর্ঘদিন খরমপুর এলাকার সড়ক সংস্কার না হবার বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘ আমি কী হেলিকপ্টারে চলাফেরা করি? সড়কটির অবস্থা যে খারাপ সেই সম্পর্কে আমি অবগত আছি।কিন্তু এই সড়কের মালিক এলজিইডি।ইতোমধ্যে আমি তাদের কাছে রিকুইজেশন পাঠিয়েছি।শীঘ্রই সড়কটিকে মেরামত করা হবে। ‘
সড়কের মালিকানা তাদের কি না এবং সাম্প্রতিক সময়ে সড়কটি সংস্কারের পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এটিএম রবিউল আলম বলেন, ‘ আমি আসলে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না খরমপুর সড়কটি আমাদের আওতায় আছে কি নেই।উপজেলা অফিসে খোজ নিয়ে জানতে হবে সড়কটির কতটুকু অংশ আমাদের মালিকানাধীন আর কতটুকু পৌরসভার মালিকানাধীন।আমাদের অফিসে সড়ক সংস্কারের জন্য অসংখ্য রিকুইজিশন জমা হয়।আমাদের মালিকানাধীন হলে আমরা অবশ্যই দ্রুত মেরামত করে দিব।’
সড়কে চলাচলকারী দূর্ভাগা মানুষের আকুতি-মিনতি, ফরিয়াদ কোন কিছুই যেন নজরে আসছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এভাবেই কি চলে একটা পৌর শহরের অবস্থা? সড়কের বেহাল দশার দায় কার সেই প্রশ্ন সকলের।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics