Tepantor

ছাত্রলীগের মোড়কে মাদক ব্যবসা, ওয়ারেন্ট থাকার পরও পুলিশ গ্রেফতার না করায় সংবাদ সম্মেলন

5 October, 2022 : 6:22 pm

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান হৃদয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মেহেদী হাসান লেলিনের বিরুদ্ধে। তাদের দীর্ঘদিনের মাদক সাম্রাজ্যের বিরোধিতা করায় হামলার শিকার হয়েছেন এলাকাবাসী। এসম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে বুধবার (৫ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা শহরের মধ্যপাড়ার শান্তিবাগ এলাকাবাসী ও যুব পঞ্চায়েত কমিটি।

এসময় এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুব পঞ্চায়েত কমিটির অর্থ সম্পাদক ইলিয়াছ চৌধুরী। তিনি বলেন,শান্তিবাগ এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান হৃদয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মেহেদী হাসান লেলিনের নেতৃত্বে একটি চক্র। হৃদয়ের পিতা প্রয়াত রফিকুল ইসলাম ছিলেন জেলা শহরের একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার মাও মাদক ব্যবসা প্রকাশ্যে করে যাচ্ছেন। এতে করে শান্তিবাগ এলাকায় মরণ নেশা ইয়াবা ও ফেন্সিডিল প্রকাশ্যে বিক্রয়ের ফলে এলাকার উঠতি বয়সের যুবসমাজ নেশায় আসক্ত হয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। এরই ফলশ্রুতিতে স্থানীয় যুব পঞ্চায়েত কমিটি মাদক নির্মূলে নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে এলাকাবাসীকে নিয়ে আয়োজিত সভায় হামলা করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লেনিন ও হৃদয়ের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা। সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রক্রিয়ায় বাধা প্রদান করে তারা। পরবর্তীতে বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লেলিন ও হৃদয়ের প্রধান সহযোগী এমরানকে মাদকসহ রাস্তার উপর থেকে পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা আটক করে। এই খবর জানতে পেরে মাদকের গডফাদারদের নেতৃত্বে পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যদের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা করে মাদক সহ আটক হওয়া এমরানকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় যুব পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমেদ, জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে এই ঘটনায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারী পঞ্চায়েত কমিটির সহ অর্থ সম্পাদক ইলিয়াছ চৌধুরী বাদি হয় লেনিন, হৃদয় সহ ১২জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হলেও তাকে অদ্যাবধি গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারী বিস্তারিত তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বরাবর অপরাধীর নাম উল্লেখ্য করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে আবেদন করে এলাকাবাসী। এতে প্রায় ৩ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা সাক্ষর করেন। এরই ধারাবাহিকতা গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে শহর আওয়ামী লীগের এক নেতার দুই ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুমন মিয়া,লিমন মিয়া এবং মাদকের গডফাদার হৃদয় সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যদের বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ হামলা করে। এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে আহত হয় মাদক ব্যবসায়ী জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়। পাশাপাশি হামলায় আহত হয় পঞ্চায়েত কমিটির অনেক সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হামলার শিকার জেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম,নুরু মিয়া, যুব পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমেদ, পৌর তাতি লীগের সেক্রেটারি হানিফ মিয়া ও ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুর রহমান হৃদয় বলেন,’ আমি কোন প্রকার মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত না। আমি ছাত্রলীগ করি, সাধারণ মানুষের সাথে সম্পর্কের কারণে তারা দেখতে পারে না।’

এই বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বলেন,’ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হৃদয়ের বিরুদ্ধে যদি ওয়ারেন্ট থাকে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে।’

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array