Tepantor

বছরে ৫০ কোটি টাকার মাদক বিক্রি করে ইব্রাহিম

26 October, 2022 : 1:43 pm
ছবি: মাদক সম্রাট ইব্রাহিম

(ওপেন সিক্রেট মাদক- পর্ব ৪)

তেপান্তর রিপোর্ট: মাদক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে মাদক কারবারি এবং চোরাচালানের লেবারদের নিয়ে সম্প্রতি বিক্ষোভ সমাবেশ করা মাদক ব্যাবসায়ী ইব্রাহিম মিয়া বছরে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মাদক বিক্রি করে আসছেন। সূত্রমতে ভারতের আগরতলা নরসিংঘর গ্রামের বাসিন্দা মাদক সরবরাহকারী মিঠু ওরফে মিটু,সয়লা,প্রবীর,নারায়ণ দত্ত,পিয়া ওরফে প্রিয়,সেম্বু,প্রতীপ ওরফে প্রদীপ,সজল,অনীল দেব এবং নরেশ দেব থেকে অবৈধ পথে প্রত্যেক মাসে গড়ে প্রায় পনেরশো কেজি গাজা এবং দুই লক্ষ পিস ইয়াবা আমদানী করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামী কাশিনগর গ্রামের মাদক সম্রাট ইব্রাহিম মিয়া। যেখানে পাইকারি ভাবে প্রত্যেক কেজি গাজা তিন থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায় কিনে পনের থেকে বিশ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় এবং প্রত্যেক পিস ইয়াবা পয়তাল্লিশ থেকে সত্তর টাকায় ক্রয় করে নব্বই থেকে একশত বিশ টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে মাদকের খুচরা বাজারে প্রত্যেক কেজি গাজা ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা এবং প্রত্যেক পিস ইয়াবা একশত পঞ্চাশ থেকে তিনশত টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। ইব্রাহিমের প্রায় দুই দশকের মাদক কারবারে গত প্রায় পাচ বছর যাবত এরকম চলছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।

বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন এর নলগড়িয়া  গ্রাম এবং নোয়াবাদী সীমান্ত দিয়েই ইব্রাহিমের মাদকের অধিকাংশ আমদানি করা হয়ে থাকে। সীমান্ত থেকে মাদক আমদানি করা হয় মূলত যখন বিজিবি’র টহল দলের শিফট পরিবর্তন হয় তখন। অভিযোগ আছে, প্রায়ই কিছু অসাধু বিজিবি সদস্য বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে মাদক চোরাচালানে সহযোগিতা করে থাকে।

জানা যায়,মাদকের কেরিয়ার বা ক্যারেন ম্যান (স্থানীয় ভাষায়) হিসেবে একাধিক ব্যাক্তি কাজ করে সেখানে। আবার তাদের নেতৃত্বে পনের থেকে বিশজন লেবার কাজ করে। মাদক সম্রাট ইব্রাহিম মিয়ার মাদক আমদানিতে ক্যারেনম্যান হিসেবে কাজ করে নলগড়িয়া গ্রামের ফর ইসলাম, হাবির,নলগড়িয়া দক্ষিণপাড়ার হাবির ওরফে খবির,আমান সহ আরো অনেকে। তাদের প্রত্যেকের অধীনে পনের থেকে বিশজন লেবার ইব্রাহিমের মাদক চোরাচালানে কাজ করে। উল্লেখ্য সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন এর সকল মাদক ব্যবসায়ীই তাদের মধ্যে যেকোনো একজনের মাধ্যমে মাদক চোরাচালানের কাজ করে থাকে।

বিভিন্ন ভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায়, ইব্রাহিম প্রত্যেক মাসে গড়ে প্রায় চার কোটি টাকার মাদক বিক্রি করে থাকে, অর্থাৎ প্রত্যেক বছর প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার মাদক সারাদেশে বিক্রি করে থাকে। এবং জমাকৃত  মাদকের অবৈধ অর্থে ইব্রাহিম তার মেজো ছেলে জনি এবং ছোট ছেলে আকাশকে প্রবাসে পাঠিয়েছে।

ইব্রাহিমের  অবৈধ অর্থের বিস্তারিত, মাদক চোরাচালানের সুনির্দিষ্ট রুট,মাদক ক্রয়-বিক্রয়, ও মাদক ব্যবসায় তার সহযোগীদের বিস্তারিত, এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিমত প্রকাশিত হবে পরবর্তী পর্বসমূহে।

চলবে…

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array