তেপান্তর রিপোর্ট: মাইকিং করে সড়কের গাছ নিধন করছেন ইউপি চেয়ারম্যান। বন বিভাগ, উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ, এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও জানেন না গাছ নিধনের বিষয়টি। এমনই ঘটনা ঘটছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তার বাড়িতে যাওয়ার সড়কটি সংস্কার করার নামে মাইকিং করে সড়কের দুই পাশে থাকা প্রায় শতাধিক গাছ কেটে উজাড় করেছেন।
গত শনিবারে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নের রাজঘর চান্দিনা থেকে ক্ষুদ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার একমাত্র সড়কটি সংস্কার করার জন্য দুই পাশে সহস্রাধিক গাছ রয়েছে। নাটাই উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ তার বাড়ির সড়কটি মূল সড়ক থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার ভিতরে। সড়কটি সংস্কার করার জন্য টেন্ডার হলেও উপজেলা প্রকৌশলের পক্ষ থেকে এখনো কোন ঠিকাদারকে সিডিউল দেয়া হয়নি। এরই মাঝে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাইকিং করে সড়কের গাছ কাটার ঘোষণা দিয়ে ৭০টি গাছ নিধন কাটিয়েছেন।
এলাকাবাসী বলছেন, হঠাৎ মাইকিংয়ে শোনা যায় সড়কটি সংস্কার করার জন্য সরকারি গাছ কাটা হবে, সড়কের পাশে কারো ব্যক্তিগত গাছ থাকলে তা নিজ উদ্যোগে কাটার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
বিষয়টি নাটাই উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি স্বীকার করে জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন বেহাল দশা হয়ে পড়ে আছে। এ সড়কটি দিয়ে আমার গ্রাম ক্ষুদ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে পুতাই, তালশহর ও আশুগঞ্জ উপজেলাতে যাতায়াত করা যায়। সড়কটি সংস্কারের অনুমোদন হয়েছে।
সড়কের গাছগুলো সরকারি গাছ, এসব গাছ কাটতে হলে বন বিভাগ, নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদন প্রয়োজন এবং তা টেন্ডারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে করতে হয়। আপনি কোন প্রক্রিয়ায় মাইকিং করে গাছগুলো কাটিয়েছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সড়কের গাছ কাটতে হলে বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতি লাগে তা আমার জানা নেই। আমার ইউনিয়নের সড়ক সংস্কার করার জন্য আমি আমার এখতিয়ারে গাছ কাটিয়েছি। গাছ কেটে গাছগুলো কী করেছেন প্রশ্ন শুনেই তিনি মুঠোফোন সংযোগ কেটে দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন, সড়কের গাছগুলো সরকারি, এসব গাছ কাটতে হলে বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কাটা সম্ভব নয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আকতার হোসেন বলেন, আমরা এখনো ঠিকাদারের নিকট সড়কের সিডিউল বুঝিয়ে দিই নি। চেয়ারম্যান নিজস্ব এখতিয়ারে গাছ কাটার কোন সুযোগ নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, সড়কের গাছ কাটার কোন সুযোগ নেই। কে বা কারা কাটছে তা আমার জানা নেই। আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি। পরক্ষণে তিনি অষ্টগ্রাম ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক পঙ্কজ কুমার বর্দ্ধনকে পাঠিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics