আশরাফুল মামুন; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় কৃষকদের কাছে ন্যায্য মূল্যে বিসিআইসির সার ও কীটনাশক বিক্রিতে অতিরিক্ত দাম আদায় এবং অনিয়মের মাধ্যমে সারের ডিলার নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার একাধিক কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভোক্তভোগীরা। তার পরেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোন ব্যাবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়াও অত্র উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি একই উপজেলায় ২০ বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে চাকুরী করছেন এবং তার নেতৃত্ব সারের ডিলারদের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরী করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সার ও কীটনাশক কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন। এতে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আখাউড়া উপজেলায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হোসেন ও মো. জিয়া নামে একাধিক কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত সার কীটনাশক দামের চাইতে আরো বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সরকারি বাসা পাওয়ার কোন নীতিমালা না থাকলেও তিনি ২০ বছর যাবত অনৈতিক ভাবে সরকারি বাসায় থাকছেন। তিনি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হয়ে নামে বেনামে সার, কীটনাশক এর ব্যবসা করছেন যা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ব্যবসা করার সুযোগ নেই।
তাছাড়াও সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী আখাউড়া উপজেলায় ৫ টি ইউনিয়নে ৫ জন সারের ডিলার থাকার কথা থাকলেও দূর্নীতির মাধ্যমে আরো অতিরিক্ত ৫ জন ডিলার নিয়োগ দিয়ে মোট ১০ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ইউনিয়নের ডিলারদের মধ্যে মারামারি পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সার ও কীটনাশক বিক্রির ডিলার হতে হবে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। কিন্তু আখাউড়া উপজেলায় নিয়োগ প্রাপ্ত অনেক ডিলার এর বাড়ি আখাউড়া উপজেলার বাহিরে। আবার অনেক সারের ডিলার এর লাইসেন্স মেয়াদউত্তীর্ণ।
মো. বিল্লাল হোসেন নামে একজন উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার প্রভাব খাটিয়ে ২০ বছর ধরে আখাউড়া উপজেলায় চাকুরী করছেন।৷ একই এলাকায় দীর্ঘ দিন চাকুরী করার সুবাধে তার প্রভাব বিস্তার করে বিসিআইসির সার ও কীটনাশক প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে বিতরণে অনিয়ম করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এবিষয়ে ফোনে মো. বিল্লাল হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এসব আর ভাল্লাগছে না পারলে আপনারা সবাই মিলে অন্যত্র বদলি করে দেন।
অত্র উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার কাছে ভোক্তভোগীরা লিখিত ও মৌখিক ভাবে জানালেও তিনি কোন ব্যাবস্থা নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে, আখাউড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, সার ও কীটনাশক সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামের অভিযোগ অনেক আগের তবে এখন নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে। আর আমার কাছে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে এসবের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর এডি মুহিত কুমার দে এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ অনিয়ম দূর্নীতি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে, কিন্তু তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন কর্মকর্তা ২০ বছর যাবত একই উপজেলায় কাজ করে তাহলে এতদিন পরে কেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলো? এটা উদ্দেশ্য মূলক, তাছাড়া আমার নাম্বার আপনাকে কে দিয়েছে, জেলা সদরে ডিডি সাহেব আছে তাকে ফোন দিলেন না কেন?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক জনাব শাহগীর আলম বলেন, আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি সংশ্লিষ্ট এলাকার যথাযথ কর্তৃপক্ষ কে নির্দেশ দিয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics