তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের জালালপুর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে রুবেল সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর প্রতিপক্ষকে ফাসাতে তাকে ইচ্ছাকৃত ভাবে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে গত ২৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে মামলা দায়ের করেন পার্শবর্তী আব্দুল্লাহ পুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযুদ্ধা হোসেন আহমেদের ছেলে ফয়সাল। কিন্তু এই ঘটনার ১ মাস পর গত (২৩ মে) যাদেরকে আসামী করে ফয়সাল হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন তাদের পক্ষ থেকে ফয়সালের বিরুদ্ধে একটি কাউন্টার মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করার জন্য গত ১৫ মে আইজিপি, স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন ফয়সাল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২১ মার্চ সাকাল ১১টায় জালালপুর গ্রামের তুফান মিয়ার বাড়ির সামনে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হোন ওই এলাকার আব্দুল হকের ছেলে রুবেল। তখন ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য জালালপুর গ্রামের প্রভাবশালী দানা মিয়া ও তার দলবল মিলে এটিকে হত্যা চেষ্টার মামলা দিতে তৎপর হয়ে উঠে। তখন ভিকটিম রুবেলকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের কর্ত্যরত চিকিৎসককে সড়ক দূর্ঘটনার কথা আড়াল করে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে ভুল তথ্য দেয় দানা মিয়া। চিকিৎসার কাগজপত্র পর্যালোচান করে এমনটি জানা গেছে। পরে এটিকে কেন্দ্র করে হত্যা চেষ্টার যেই এজাহার থানায় জমা দিওয়া হয়েছিলো সেই মামলায় আসামী করতে চেয়েছিলো দানা মিয়ার প্রতিপক্ষ জালালপুরের মাওলানা আফজাল হোসেন ও তার পক্ষের কয়েক জন ব্যক্তিকে। এর মধ্যে ফয়সালও ছিলেন।
এদিকে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটার পর ফয়সাল থানা পুলিশকে ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে মিথ্যা মামলার আশঙ্কার বিয়টি অবহিত করে তিনি দূর্ঘটনাস্থলে যান বিষয়টি ভালো ভাবে জানতে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর ফয়সালের উপর অতর্কিত হামলা করে দানা মিয়া ও তাল দলবল। ফয়সালকে পিটিয়ে তার দুই পায়ের ও বুকের হাড় ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এই ঘটনার দিনই চিকিৎসক রুবেলকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। কিন্তু তারা রুবেলকে ঢাকায় নিয়ে যায়নি। এই সময় তিনি মাওলানা আফজাল হোসেন গংদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসাপাতাল থেকে কর্তৃপক্ষের অগোচরে ছাড়পত্র সংগ্রহ না করে রুবেলকে অসৎ উদ্যেশ্যে নিয়ে যায় দানা মিয়া। এর ৪ দিন পর ২৬ মার্চ রুবেলকে ঢাকার আজিমপুরের “আর্ক হাসপাতাল লিমিটেড” নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পর ৩০ মার্চ রুবেল মারা যান বলে জানা গেছে। এরপরের দিন ভোর বেলা রুবেলের লাশ পোষ্টমর্টেম ছাড়াই দাফন করা হয়। এই চারদিন রুবেল কোথায় ছিলো তা কেউ জানেনা।
পরে দানা মিয়া ও তার অনুসারীরা রুবেলকে হত্যা করেছে মর্মে ২৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ফয়সাল। একই সাথে ওই মামলায় ফয়সালের উপর হামলারও বিচার চেয়েছেন তিনি।
এই মামলার ১ মাস পর প্রতিপক্ষ দানা মিয়ার এক অনুসারী ফয়সালকে এক নম্বর আসামী করে একটি কাউন্টার মামলা দায়ের করেন যেখানে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এবিষয়ে মোস্তাক আহমেদ ফয়সাল বলেছেন, দানা মিয়া একজন সুধখোর, তার অনেক টাকা আর টাকার জোরেই সে এলাকাতে প্রভাব বিস্তার করে। তাই টাকা দিয়ে স্থানীয় পুলিশকে প্রভাবিত করে কিনা এনিয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান। কারন, এমন ঘটনার ক্ষেত্রে কোন বেসরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট ভেল্যুলেস। কিন্তু মামলার আইও বিজয়নগর থানার এসআই মাহমুদুর রহমান ঢাকার “আর্ক হাসপাতাল লিমিটেড” নামক যেই হাসপাতালে রুবেলের চিকিৎসা হয়েছিলো সেই হাসপাতালে ওই পুলিশ অফিসার তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন যে, কি কারনে রুবেল মারা গেছে। অথচ এই বেসরকারি হাসপাতালের কোন তথ্যই মামলার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবেনা। এক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের তথ্য গ্রহনযোগ্য। এসআই মাহমুদুর রহমানের উচিৎ ছিলো এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন করার জন্য লাশ পোষ্ট মর্টেমের আবেদন করা। তখন সহজেই মৃত্যুর আসল রহস্য বের করা যেতো পোষ্ট মর্টেম রিপোর্ট দেখে। কিন্তু তিনি তা করেননি। আর এসব কারনেই আমি পুলিশ প্রধান, পুলিশ সুপার, স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে সঠিক ভাবে তদন্তের জন্য আবেদন করেছি। পুলিশ হেডকোর্য়াটারের নির্দেশে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপ্স) এ এইচ এম কামরুল ইসলাম অভিযোগটি তদন্ত করছেন । ব্যক্তিটি মারা যাওয়ার পর আইও তার এমসি চেয়ে সদর হাসপাতালে আবেদন করেছেন। এর চেয়ে হাস্যকর ঘটনা আর কি হতে পারে। যেহেতু মৃত্যু হয়েছে এখন ময়না তদন্তের প্রয়োজন, কিন্তু তা না করে তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে তলবাহানা করছেন।
এবিষয়ে বিজয়নগর থানার এসআই মাহমুদুর রহমান বলেছেন, এটি বেসরকারি হাসপাতাল ঠিক আছে, যেহেতু এখানে চিকিৎসা হয়েছে তাই এখান থেকেও কিছু তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছি। বেসরকারি হাসপাতালের কোন তথ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য কিনা ও লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কেন আবেদন করেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের তথ্যটি দেখার পর উপর মহলের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এসব বিষয়ে বিজয়নগরের চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীমুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিজয়নগরের পুলিশ প্রশাসন ২ নম্বর। এর মধ্যে এসআই মাহমুদুর রহমান আরও ২ নম্বর। তারা বিষয়টাকে তদন্তের নামে তামাশা করছে। যেই ছেলেটা মারা গেছে (রুবেল) সে নতুন বাইক চালাতো ফলে ভালো ভাবে চালাতে পারতোনা। নিজের গ্রামেই সে বাইক নিয়ে বড়ই গাছের সাথে ধাক্কা খায় এবং সে আহত হয়। এবিষয়ে আমি ও আমার লোক সাক্ষী দিবে। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে মারপিট হয়েছে বলে ভুল তথ্য দিয়েছে। সেখান থেকে রুগীকে চুরি করে নিয়ে বাজিতপুর কয়েকদিন রেখেছে। তারপর ঢাকার একটি হসপিটালে ভর্তি করায়। এখন দানা মিয়া রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে ফয়সাল যেই অভিযোগ করেছে তা নিয়ে আমি বলবো, দানা মিয়া হত্যা করলেও করতে পারে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics