মোস্তাফিজ চৌধুরী: বিদেশ যেতে টাকা না দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গুলখার গ্রামে সানিয়া নামের এক গৃহবধূকে তার স্বামী শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করছে মেয়ের পরিবার। হত্যা মামলা করতে চাইলে পুলিশ আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা গ্রহন করে বলেও তাদের অভিযোগ। কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়ন এর নেয়ামতপুর গ্রামের আক্তার হোসেনের মেয়ে সানিয়া।আর তার স্বামী আখাউড়া উপজেলার গুলখার গ্রামের আওয়াল মুন্সির ছেলে রায়হান মুন্সি।
গত ৮’ই মে রোববার আখাউড়ার গুলখার গ্রামে গৃহবধূর স্বামীর বাড়িতে এঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তার স্বামীর বাড়ির লোকজন দাবি করছে সে তার গায়ের ওড়না গলায় পেচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আত্মহত্যা চেষ্টা করলে সংকটাপন্ন অবস্থায় প্রথমে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে শহরের নিউ ল্যাব এইড হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে কোন উন্নতি না ঘটলে ডাক্তারের রেফারেন্সে তাকে ঢাকায় নেয়ার পথে সে মারা যায়। অন্যদিকে গৃহবধূর পরিবার বলছে তাকে তার স্বামী পরিবারের সহায়তায় শারীরিক ভাবে নির্যাতন করার কারণে সানিয়ার মৃত্যু হয়।
সানিয়ার মা সোহেনা বেগম বলেন, তারা আমার মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই মারপিট করে আসছে। কয়দিন আগেও মেয়েরে জামাই বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে এসে পরছিলাম,যেতে দেয় নাই,কারণ অনেক অত্যাচার করে। জামাই বিদেশ যাবে জামাইরে টাকা দিতাম, এজন্য মারপিট করে। ঘটনার আগেরদিন ফোন দিছি আমাদের বাড়িতে আসার জন্য, বলছে আসবে। আজকে আমার ছেলে ভিডিও কল দিছে,ভিডিওতে দেখা যাইতেছে তার শাশুড়ী তাকে মারতে আসতেছে সেটা দেখে আমার ছেলে কল কেটে দিছে। এর পরেই আমার মাইয়ারে তারা মেরে ফেলছে। তারা আমাদের কিছু জানায়নি। তাদের পাশের বাড়ির একজন আমাদের মাগরিবের ওয়াক্তে জানাইছে যে আপনার মেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাসপাতালে। এরপর আমরা সাথে সাথেই রওনা দিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি এরা লাশ ফেলে পালিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও অনেকবার আমার মেয়েকে মারপিট করছে,জুলুম করেছে। জামাই বাড়ির দুজন সর্দার বিল্লাল মুন্সি এবং মাজিদ মুন্সি জিম্মা নিয়ে আমার মেয়েরে স্বামীর বাড়ি নিয়ে গেছে। বিয়ের সময় দুই লাখ টাকা যৌতুক দেয়ার পরও টাকা পয়সার জন্য বেশি অত্যাচার করছে। আমার স্বামী রিক্সা চালাইয়া সংসার চালায় টাকা কই থেকে দিব।
সানিয়ার মামা বলেন, আমার ভাগ্নিরে বিয়ে দিছি আজকে চার বছর। বিয়ে দেয়ার পর থেকেই ছেলে এবং ছেলের মা বিভিন্ন ধরনের অশান্তি দিয়ে আসছে। মাঝখানে আমরা মেয়েটাকে নিয়ে আসলে সর্দার মাতবররা দায়িত্ব নিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু মাস দুই মাস যাওয়ার পরেই আবার অত্যাচার শুরু করে। ।ঈদের পরে ছেলে বিদেশ যাইবো তাই দুই লাখ টাকা চাইছে। তখন আমরা বলছি এতো টাকা দিব কোথায় থেকে, আমাদের পক্ষে সম্ভব না। এরপর থেকেই আবার অত্যাচার শুরু করছে। আর এখনতো মেয়েটাকে মেরেই ফেলল।
সানিয়ার মামা মোঃ লোকমান বলেন, আমরা যখন ঘটনা শুনলাম সানিয়াকে মাইরা ফেলছে,শুনেই আমরা দৌড়াইয়া গুলখার গেলাম। গিয়ে দেখি সেখানে কোন লোক নাই। সেখানে একজন বলল ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউ ল্যাব এইড হাসপাতালে তারে ভর্তি করে রাখছে,ওইখানে যেয়ে জানতে পারি তাকে ছয়তলায় আইসিইউতে রাখছে। আইসিইউতে যেয়ে দেখি সেখানে মৌড়াইলের হারুন মিয়ার দায়িত্বে মেয়েটা আছে। উনাকে উনার নাম জিজ্ঞেস করে বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন মৌড়াইল। তারপর তিনি বলেন মেয়েটা আমার আত্নীয়ের আত্নীয়। জামাই বাড়ির লোকজন কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন এরা মেয়েটাকে ফেলে চলে গেছে। এরপর আমরা দেখলাম মেয়েটার শ্বাসপ্রশ্বাস নাই, আইসিইউতে পড়ে আছে। তারা বলছে ৫ পার্সেন্ট বাচার সম্ভাবনা আছে,তখন আমি বলছি মেয়েটাতো এখনই মরা। তারপর আমরা বের হয়ে আখাউড়া থানায় গেলাম,সেখান থেকে পুলিশ নিয়ে গুলখার জামাইয়ের বাড়ি গেলাম,জিজ্ঞাসা করতে বিল্লাল মুন্সি ও মাজিদ মুন্সি কে খোঁজে পাওয়া যায় নাই। আর জামাইয়ের বাড়ির সবাই গরুছাগল নিয়ে বাড়ি তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা বাড়ি বাড়ি তালাশ করেও কাউকে পাই নাই। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি যেই হারুনের তত্ত্বাবধানে মেয়েটা হাসপাতালে ছিল সেই হাসপাতালের মালিক হারুনের আত্নীয়। তাই আমারা বুঝতে পারি তার মাধ্যমেই মেয়েটাকে নেয়া হয়েছে। মেয়েটাকে আগেই মারা হইছে। আমাদেরকে ছলনা করে বুঝাতে চাইছে মেয়েটা জীবিত ছিল, তাই হাসপাতালে ভর্তি করছে। এই হারুন তাদের সাথে মিলে এই ছলনাটা করছে।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন বলেন, সানিয়ার বিয়ের পর থেকে তিন চারবার দরবারটা আমি করছি। মেয়েটা বিয়ের পর থিকাই সুখে নাই,জামাই মারে শাশুড়ি মারে,মোটামুটি একটা অশৃঙখল পরিবেশ ছিল। দুই তিনবার তারা আমাদের থেকে বলে মেয়েটাকে নিয়ে গেছে। তৃতীয়বার যখন স্বামী বিদেশ যাইবো বলে কয়েক লাখ টাকা দাবি করছে তখন মেয়ের মা আমাদেরকে বলছে আমার যে সামর্থ আছে আমি এই সামর্থ্য দিয়ে টাকা দেয়া সম্ভবনা,অতএব মেয়েটারে মনে হয় আমরা খাওয়াইতে পারবো না। তখন আমি বিষয়টি আমলে নিয়ে মেয়েটির কাছে জানতে চাই, কিছুদিন পর মেয়েটি বাড়িতে আসে তখন আমি মেয়েটির মাকে বলি মেয়েটিকে আর দিয়ো না,কারণ তুমি টাকাও দিতে পারবানা। যদি এরা এভাবে নেয় তাইলে নিব নাহলে নাই। দু-তিন মাস এখানে রেখে দেয়ার পর জামাইয়ের বাবার পক্ষ থেকে এক দুইবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে,আমরা দেয় নাই কারণ টাকা দিয়ে দেয়া সম্ভব ছিল না। পরবর্তীতে গ্রাম থেকে দুজন সর্দার বিল্লাল মুন্সি এবং মাজিদ মুন্সি আমাদের কাছে ছেলে এবং ছেলের বাবাকে নিয়ে আসলো। তারা আমাদের কাছ থেকে ঘটনা বিস্তারিত শুনে বুঝতে পারলো ঘটনা সঠিক। আমি বললাম এই পরিবেশে আমরা কিভাবে মেয়েটাকে দিব বলেন। তখন উনারা হাতজোড় করে আকুতি মিনুতি করে বলছে এমন কিছু হবে না। বিশেষ করে বিলাল মুন্সি সব দায়িত্ব নিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে গেছে। কিন্তু নেয়ার পর থেকেই আবার আগের মতো শুরু করে, আর এখনতো মেয়েটাকে মেরেই ফেলছে। যারা দায়িত্ব নিয়ে মেয়েটাকে নিয়ে গেছে তারা কেউই এখনো পর্যন্ত আমাদের সাথে যোগাযোগ করে নাই।
এলাকার মুরুব্বি আলম মিয়া বলেন, বিল্লাল মুন্সি, মাজিদ মুন্সির সাথে আমি ব্যাক্তিগতভাবে কয়েকটা মিটিং করছি,তারা আমাদের আশ্বাস দেয়। পরবর্তীতে তারা আমাদের কাছে আসে,আইসা আমাদের অনেক রিকোয়েস্ট করে মেয়েটাকে নিয়ে গেছে। ছেলেটাকে ছেলের মা গাইড করছে, মা’টা অনেক খারাপ। আজ পর্যন্ত তারা কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করে নাই।
গুলখার গ্রামের বিল্লাল মুন্সির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন রাতে নেয়ামতপুরের আনোয়ার সাহেব ফোন দিয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানান। তার আগে আমি কিছুই জানতাম না। তার কিছুক্ষণ পরই মাজিদ সাহেব আমার বাড়িতে এসে ঘটনা বললে তখন আরও নিশ্চিত হয়। আমরা সামাজিকতার খাতিরে দেন দরবার করে থাকি, সে হিসাবেই মেয়েটাকে জামাইয়ের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসছিলাম। পরে জানতে পারি আমার নামেও মামলা দেয়া হয়েছে।
নেয়ামতপুর গ্রামের স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোঃ আল আমীন বলেন, আমি সবকিছুই জানতাম, এলাকার বাহিরে থাকাতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বলেছি বিষয়টা দেখতে তারা দেখছিল। আমি সানিয়া হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
মৌড়াইলের হারুন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি সাজিদ ভাই এর মাধ্যমে সেখানে গেছি। আমরা একসাথে রিক্সা ভ্যান মালিক সমিতির সংগঠন করি।
সাজিদুল ইসলাম বলেন, আমিই মেয়েটিকে নিউ ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
অভিযুক্ত মাজিদ মুন্সি তার বড় ভাই বলে জানান তিনি।
মামলা দায়েরের ব্যাপারে মেয়ের মা সোহেনা বেগম বলেন থানায় গিয়ে আমি বলছি মার্ডারের কেইস নিতে, কিন্তু পুলিশ নিসে আত্নহত্যা প্ররোচনা মামলা। আত্মহত্যার প্রাথমিক কোন প্রমাণ না থাকলেও কেন আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করা হয়েছে জানতে চাইলে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম বলেন, তাদের লিখিত অভিযোগ এর প্রেক্ষিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। পোস্ট মর্টাম রিপোর্টে বিস্তারিত জানা যাবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আসামি কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছে।
যে ওড়না দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে সে ওড়নাটি উদ্ধার করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এব্যাপারে মামলার আইও মোবারক সাহেবের সাথে কথা বলে জানাতে পারবো।
এ বিষয়ে কসবা সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসপি কামরুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনা সম্পর্কে অবগত, তবে সকল ব্যাপারে আমরা বসবো। থানার ওসি এব্যাপারে কাজ করছে।
জেলা সদর হাসপাতালে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রদানকারী ডাঃ আওয়াতিফ ইবনে মতিন এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায় মাজিদ(মাজন) মুন্সির ছোট ভাই সাজিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেই সানিয়ার স্বামী এবং শাশুড়ি গৃহবধূকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসে,আর মোড়াইলের হারুন এর পরামর্শে সাজিদ মেয়েটিকে নিউ ল্যাব এইড হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে ভর্তি করান। যদিও সাজিদুল ইসলাম এবং নিউ ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে মেয়েটিকে আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলো এবং সেখান থেকে ঢাকা আইসিইউতে রেফার করেছে,কিন্তু তারা এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এব্যাপারে নিউ ল্যাব এইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহেদ মিয়া বাবুল বলেন, আমার পরিচিত হারুন আমাকে ফোন দিয়ে এরকম একটা রোগীর কথা বলে। তখন আমি বলি ঢাকা নিয়ে যেতে,পরে সর্দার সাজিদ মিয়া,সানিয়ার জামাই এবং শাশুড়ি মেয়েটাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। মেয়েটাকে ঢাকা আইসিইউতে সদর হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয়েছিল, হাসপাতালে মেয়েটা জীবিত ছিল। পরে তার অবস্থা আরও খারাপ হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সৈয়দা মাসুমা কাউছার তাকে ঢাকায় রেফার করেন, জানতে পারি রোগী ঢাকায় যাওয়ার পথে মারা যায়।
মৌড়াইলের হারুন নিউ ল্যাব এইড হাসপাতালের পরিচালক বাবুলকে রোগীর ব্যাপারে ফোন দেয়ার কথাটি অস্বীকার করেন।
চিকিৎসক সৈয়দা মাসুমা কাউছারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি মেয়েটিকে যখন দেখেছি সে জীবিতই ছিল,তার অবস্থা খুবই ক্রিটিকাল ছিল। আমি তাকে ভর্তি করাতে চাইনি,ঢাকা নিয়ে যেতে বলছিলাম। কিন্তু বাবুল ভাই বলল তার পরিচিত লোকের রোগী। তাই ভর্তি করেছিল।
বাবুল ভাই এর পরিচিত লোক মোড়াইলের হারুন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হতে পারে, আমি নাম জানিনা।
তবে আইসিইউ বিভাগে সানিয়ার প্রত্যেক ঘন্টার মেডিকেল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টে দেখা গেছে প্রত্যেক বারই তার ব্লাড প্রেশার (বিপি) নন রেকর্ডেবল উল্লেখ করা আছে, এবং রোগীকে ডাঃ সৈয়দা মাসুমা কাউছারের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীটি আইসিইউ এর বাহির থেকে ভর্তি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু সদর হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয়েছে এরকম কিছু উল্লেখ নাই।
উল্লেখ্য সানিয়ার মৃতদেহ পর্যবেক্ষণ করে গলায় ফাস দিয়ে আত্নহত্যা চেষ্টার কংক্রিট কোন লক্ষণ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি যে ওড়না পেচিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে সেই ওড়নাটির এখনো পর্যন্ত কোন হদিস মেলেনি।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics