Tepantor

ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মদদে শেখ হাসিনা সড়ক সংলগ্ন জমি বেআইনিভাবে ভরাটের হিড়িক

24 October, 2023 : 7:35 pm

কাজী আশরাফুল ইসলাম: সদর উপজেলার সঙ্গে বিজয়নগর উপজেলার সংযোগ স্থাপনকারী নবনির্মিত শেখ হাসিনা সড়কের বিজয়নগর অংশে সড়কের আশেপাশের আবাদি অনাবাদি জমি বেআইনিভাবে ভরাটের মহোৎসব শুরু হয়েছে। পত্তন ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সাক্ষরিত জেলা প্রশাসকের বরাবর লিখিত একটি নাম মাত্র আবেদনপত্রকে পুজি করে গত এক মাস যাবত দিন রাত বালু দিয়ে বেআইনিভাবে জমি ভরাটের কাজ করছে একটি অসাধু চক্র।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের মনিপুর ও লক্ষীমুড়া বাজারের আশেপাশে শেখ হাসিনা সড়ক ও রামপুর – মনিপুর সড়ক সংলগ্ন প্রায় বিশটি জমি ইতিমধ্যে বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ভরাটকৃত জমির মধ্যে কৃষি জমি,পতিত জমি,জলাধারও রয়েছে। দেশের প্রচলিত আইনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিত ভূমির শ্রেনী পরিবর্তন বেআইনি হলেও, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি মহল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে জমি ভরাট করছে। প্রথম দিকে উপজেলা প্রশাসন এক দুইবার অভিযান পরিচালনা করে পাইপসহ ড্রেজার জব্দ করলেও গত তিন সপ্তাহ যাবত উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনিপুর গ্রামের হজরত মিয়া,হেলাল মিয়া,ইলিয়াস মিয়া ও ছোট্টো মিয়া দুটি সিন্ডিকেটে ভাগ হয়ে বাল্কহেড বোঝাই করে বালু এনে আনলোড ড্রেজারের মাধ্যমে একের পর এক জমি ভরাট করছে।একটি সিন্ডিকেটের মূল হোতা হজরত মিয়ার কাছে বেআইনিভাবে জমি ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বীরদর্পে বলেন,’ সারা দেশের মধ্যে তো আর আমি একা বেআইনি কাজ করি না,দেশের কত কত মানুষ কত কত অপরাধ করে, আগে হেরার বিচার করেন গিয়া।আমার কাজ যদি অবৈধ হয়,দেশের অনেক কিছুই অবৈধ। আমি চেয়ারম্যান সাবের অনুমতি লইছি,কোন কথা থাকলে উনারে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন।’ একই বিষয়ে জানতে চাইলে অপর সিন্ডিকেটের মূল হোতা হেলাল মিয়া বলেন,’ কদিন আগে প্রশাসন আমার ছয়শ ফুট পাইপ ভাইংগা দিছে,ব্যবসা এমনিতেই লসে আছি,আপনি লেখলে না হয় আরও কয়টা টাকা লস হইব।আমি চেয়ারম্যান সাবের অনুমতি নিয়াই বালু ভরাট করতেছি।’ জমি ভরাটের অনুমতি পত্রটি দেখতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে পত্তন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম এবং উনার পরিষদের মেম্বারদের সাক্ষর করা একটি রেজুলেশন দেখান।রেজুলেশনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সভা আহবান করে সকল মেম্বারদের সম্মতিক্রমে তাজুল ইসলাম চেয়ারম্যান গত ২১শে সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের নিকট শেখ হাসিনা সড়ক ও রামপুর- মনিপুর সড়ক সংলগ্ন গর্তগুলো বিশেষ বিবেচনায় ভরাটের আবেদন করেন।আবেদনের পর অনুমতি না পেয়েই তারা একের পর এক জমি ভরাট করে যাচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে পত্তন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তেপান্তরকে বলেন,’ শেখ হাসিনা সড়ক আর মনিপুর – রামপুর সড়ক নির্মাণের সময় রাস্তার পাশের জমিগুলো থেকে মাটি কেটে রাস্তা উচু করা হয়েছিল,যার ফলে রাস্তার পাশের জমিগুলো গর্ত হয়ে গিয়েছিল। এই গর্তগুলোতে পানি জমে মশার অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে।এলাকার লোকজন অনুরোধ করলো,তাই জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি আবেদন করেছি,তবে এতে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোন উদ্দেশ্য নাই।কেউ যদি মূল সড়ক বাদ দিয়ে গ্রামের ভেতরের জমি ভরাট করে থাকে তাহলে এটা অন্যায় করেছে।’ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমন অনুমতি দিতে পারে কি-না, আর জেলা প্রশাসকের অনুমতি পাবার আগেই জমিগুলো ভরাট করা হলো কীভাবে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে তার অফিসে চায়ের দাওয়াত দিয়ে প্রশ্নগুলো কৌশলে এড়িয়ে যান।

দীর্ঘ এক মাস যাবত দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা একাধিক ড্রেজারের মাধ্যমে ডজন ডজন জমি অবৈধভাবে ভরাট এবং চেয়ারম্যানের প্রদত্ত অনুমতিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয়নগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান খান শাওন তেপান্তরকে বলেন,’ চেয়ারম্যান এভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই আসে না। কারও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করতে হবে। তিনি একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরজমিনে তদন্তপূর্বক অনুমতি দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। আমি ইতিমধ্যে সেখানে দুইবার অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ পাইপলাইন ভেঙে দিয়ে এসেছিলাম।এরপরেও যদি কেউ এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকে আপনি তালিকা দিন,আমি খোঁজ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array