তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজুর রহমান ওলিও’র সমর্থকদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের কাউতলী স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহসহ ছাত্রলীগের ১০ জন নেতা কর্মী আহত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে শহরের টেংকের পাড় থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের কুমারশীল মোড়, সদর হাসপাতাল রোড, কোর্ট রোড, টি.এ রোড এলাকা হয়ে কাউতলী স্টেডিয়াম এলাকায় যায়।
মিছিলটি স্টেডিয়াম এলাকা অতিক্রম করার সময় কাঁচি মার্কার প্রার্থী ফিরোজুর রহমান ওলিও’র নির্বাচনী অফিসের পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে সমর্থকরা প্রথমে গালমন্দ এবং আকস্মিকভাবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।স্বতন্ত্র সমর্থকদের ছোড়া ইটের আঘাতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহসহ ১০ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ধাওয়া দিলে কাঁচি মার্কার প্রার্থী ফিরোজুর রহমান ওলিও’র সমর্থকরা পালিয়ে যায়।ছাত্রলীগের কর্মীরা কাচি মার্কার নির্বাচনী অফিসটি ভাঙচুরে উদ্যত হলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক গিয়ে উত্তেজিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিবৃত্ত করেন।
ঘটনার পর পর কাঁচি প্রতীকের কাউতলী কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যালয়ের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে রাসেল হোসেন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে সন্ধ্যা সাতটায় একবার এবং রাত এগারোটায় দ্বিতীয়বার ফেসবুক লাইভে আসেন।ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চলে যাবার পর সন্ধ্যা সাতটার লাইভে দেখা যায় অফিসের চেয়ারগুলো উলটানো তবে অফিসের বাকী জিনিসপত্র অক্ষত রয়েছে। কিন্তু রাত এগারোটায় তিনি পুনরায় তার আইডি থেকে যে লাইভটিতে আসেন সেখানে দেখা যায় একই অফিসের বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেঙে তছনছ হয়ে আছে। পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিকাইল হোসেন হিমেল অভিযোগ করেন,’ ছাত্রলীগের কয়েক হাজার কর্মী ছিলো। তারা যদি চাইতো তাহলে কাচি মার্কার অফিসের ইটগুলো খুলে নিয়ে আসতে পারতো।কিন্তু ছাত্রলীগ নির্বাচনী আচরনবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিধায় বড়ো কোন দূর্ঘটনা ঘটেনি।বরং স্বতন্ত্র সমর্থকদের ছোড়া ইটের আঘাতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম ভাইয়ের মাথা ফেটে গেছে। নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা নিজেদের অফিস নিজেরা ভেঙে আমাদেরকে দোষারোপ করছে।আপনারা প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী বিল্ডিংয়ের সিসি ফুটেজগুলো যাচাই করে সত্যতা খুজে বের করুন।’ নিজেরাই নিজেদের অফিস ভেঙে ছাত্রলীগের উপর দোষ চাপানোর অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কাচি মার্কার কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যালয়ের প্রধান সমন্বয়ক রাসেল হোসেন তেপান্তরকে বলেন ‘আমাদের কয়েকজন কর্মী কাউতলী কার্যালয়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করছিলাম। নৌকার প্রার্থীর পক্ষে একটি মিছিল আসে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা কার্যালয়ে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে। কোনোমতে দুটি শাটার লাগাতে পেরেছি। তারা আমার কর্মীদের কার্যালয় থেকে বের করে প্রাণে হত্যা করতে চেয়েছিল।’ নিজের ফেসবুক লাইভের প্রথম ও দ্বিতীয় ফুটেজে একই অফিসের সরঞ্জাম অক্ষত ও তছনছ এমন পার্থক্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভন তেপান্তরকে বলেন, ‘ ছাত্রলীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে শহরের টেংকের পাড় থেকে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়। এসময় মিছিলটি কাউতলী স্টেডিয়াম এলাকা অতিক্রম করার সময় কাঁচি মার্কার প্রার্থী ফিরোজুর রহমান ওলিও’র সমর্থকরা বিভিন্ন ধরনের উস্কানীমূলক গালমন্দ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। আমরা ইতিমধ্যেই সদর মডেল থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আসলাম হোসাইন জানিয়েছেন,নাম উল্লেখ করে দুই পক্ষই আমার কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে। তদন্ত চলছে,। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics