তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক চিকিৎসকের ভাড়া বাসা থেকে তামান্না আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরী গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। শহরের মৌলভীপাড়া এলাকার গাজী ভবনের ১০ তলায় ডাক্তার ইশরাত জাহানের ফ্ল্যাটে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তামান্নার বাবা-মায়ের অভিযোগ, তামান্নাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত তামান্না কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মো. সুমন মিয়ার বড় মেয়ে। তবে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘরে ভাড়া বাসায় থাকেন। ইশরাত ব্রহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
সুমন মিয়া বলেন, আমার মেয়ে যদি আত্মহত্যা করে থাকে তাহলে তার লাশ নামানোর আগে আমাদের জন্য অপেক্ষা করত। কারণ ভাদুঘর থেকে মৌলভীপাড়া যেতে ১০-১৫মিনিট সময় লাগার কথা। কিন্তু তারা লাশ নিজেরাই হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
তামান্নার মা মুন্নি আক্তার বলেন, গত ১০-১৫দিন আগে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তারা মেয়েকে মারধরসহ নির্যাতন করে বলে জানিয়েছিল মেয়ে।
এবিষয়ে জানতে ডাক্তার ইশরাত জাহানকে ফোন করে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হোননি। তবে তিনি বলেছেন, মেয়েটি যেহেতু আমার সাথে ৩ বছর যাবৎ ছিলো তাই আমার উপর দোষ আসবেই।
তবে এই ঘটনার পর ডাক্তার ইশরাত ব্যাগ গুছিয়ে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটায় হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা নীরিক্ষা করে ওই কিশোরীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics