কাজী আশরাফুল ইসলাম: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ব্যাস্ততম এলাকা কুমারশীল মোড়ের সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্দেশ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কর্তৃক প্রায় পঁচিশ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি ঘড়ির ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। সময় দেখার জন্য ভাস্কর্যের তিন দিকে তিনটি ঘড়িও স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাণ কাজের শুরুর দিকে বড়ো বড়ো ঘড়ির কাটার নকশা সম্বলিত তিনটি শিট স্থাপনের পর নান্দনিক কিছু হতে যাচ্ছে ভেবে শহরবাসী এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছিল। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রশংসামূলক স্ট্যাটাসও পোস্ট করেছিল।তবে শহরবাসীর দৃষ্টিভঙ্গি পালটে যায় যখন এইসব শিটের উপর অনেকটা মসজিদের ঘড়ির আদলে তিন দিকে তিনটি সাধারণ ডিজিটাল ঘড়ি বসিয়েই তাড়াহুড়ো করে পৌর মেয়র ও পৌরসভার নির্বাহী এর উদ্বোধন করে ফেলেন ।
শহরবাসীর প্রত্যাশা ছিল কুমারশীল মোড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরের বিখ্যাত ওয়াচ-টাওয়ারের আদলে নান্দনিক কিছু একটা নির্মাণ করা হচ্ছে কিন্তু উদ্বোধনের পরে ক্রমেই সবাই বুঝতে পারে আশায় গুড়ে বালি।সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য রাতের বেলায় ডেকোরেশনের ঝারবাতি দিয়ে ভাস্কর্যে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু তাতেও খুব একটা মন গলেনি শহরবাসীর।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাস্কর্যের নির্মাণকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভাস্কর্য অপছন্দ হবার পাশাপাশি, পঁচিশ লক্ষ টাকার ব্যায়কে অবিশ্বাস্যও বলছেন অনেকে।ভাস্কর্যটি নির্মাণের পর শুরু থেকেই এর সৌন্দর্য ও নির্মাণ ব্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও তরী বাংলাদেশের আহবায়ক শামীম আহমেদ।তিনি বলেন,’ যে টাকা ব্যয় দেখানো হচ্ছে তা দিয়ে এর চেয়ে নান্দনিক কিছু নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। শহরের দূষণ,দখল,সংস্কারসহ বিভিন্ন নাগরিক দুর্ভোগকে পাশ কাটিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেহেতু এই ঘড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, এটাকে আরও নান্দনিক করা হউক।’
শহরের কুমারশীল মোড়ের ফার্মেসী ব্যবসায়ী জিয়াউল হক আক্ষেপের সুরে তেপান্তরকে বলেন,’ ফেনী শহরে সেদিন দেখলাম কত সুন্দর একটা ইসলামিক মনুমেন্ট স্থাপন করা হয়েছে,দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় আর আমার শহরেরটা দেখলে রুচি ফিরে যায়।’ মুরাদ মিয়া নামের একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন,’ কোন রকমে কয়টা লোহা লংকর জোড়া দিয়া একটা দাড় করাই দিল, কাজ শেষ। কোন মস্তিষ্ক নিয়ে এমন ভুগিযুগি একটা জিনিস নির্মানের চিন্তা মাথায় আসে?’
ভাস্কর্যটির প্রয়োজনীয়তা এবং নির্মাণ ব্যয়সহ তদসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য পৌর মেয়র মিসেস নায়ার কবীরের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
তবে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সুমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ‘ এখনো কাজ শেষ হয় নি আর দৃশ্যভঙ্গির উপর নান্দনিকতা নির্ভর করে।’
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics