Tepantor

পরিবেশের এডি’র দাম্ভিকতা, বললেন কিছু করার নেই

10 March, 2025 : 6:41 pm
ছবি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অদিধপ্তরের এডি নয়ন মিয়া।

তেপান্তর রিপোর্ট: পুকুর ভরাটের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু করার নেই। কেউ পুকুর ভরাট করা শুরু করলে সেটি থামানোর ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু করার নেই, তবে পুকুর ভরাট করার পর ওই ভরাটকারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্যাস এটুকুই। সেই মামলায় আদালত কেবল ওই পুকুর ভরাটকারীকে কিছু টাকা জরিমানা করতে পারেন। এতে আদালত সাজা দেয়না বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নয়ন মিয়া।

বছরের পর বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে পুকুর ভরাট হতে থাকলেও কোনো একটি পুকুরও ভরাট থামানো যায়নি কেন এবিষয়ে জানতে গত ৩ মার্চ পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, মানুষের প্রয়োজনে মানুষ পুকুর ভরাট করবেই। এটি দোষের কিছু নয়। ব্যাপারটি যখন পরে আদালতে যায় তখন আদালত এটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখেন না। ফলে বছরের পর বছর আদালতে মামলা চলার পর আদালত কিছু টাকা জরিমানা করেন। তারপর জলাশয়টিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতেও আদালত নির্দেশ দেয়না। তাই কোনো পুকুর আর উদ্ধার হয়না। বিষয়গুলো এভাবেই শেষ হয়।
উনার এই বক্তব্য পত্রিকার প্রতিবেদক তার অনুমতি সাপেক্ষে রেকর্ড করতে চাইলে তিনি তাতে বাধা দেন এবং প্রতিবেদকের সাথে অসামাজিক আচরণ করেন। তিনি তখন দম্ভ করে প্রতিবেদককে বলতে থাকেন, আপনার পড়াশোনা কতটুকু? সমকাল, যুগান্তর, প্রথম আলো সহ অন্যান্য বড় পত্রিকার রিপোর্টাররা আমার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তা পত্রিকায় প্রকাশ করে।

এসময় তিনি নিজেকে একজন কলাম লেখক দাবী করেন এবং তিনি আন্তর্জাতিক পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস, হিন্দুস্থান টাইমস ও পাকিস্তানের ডন পত্রিকাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক পত্রিকার নিয়মিত পাঠক বলেও দাবী করেন। তিনি সাংবাদিকতা বুঝেন তাই তার কথা রেকর্ড করা যাবেনা বলেই বুঝিয়েছেন। তাই যদি হয় তাহলে একজন সাংবাদিক সংবাদের প্রয়োজনে কারও বক্তব্য রেকর্ড করা আইনি নাকি বে-আইনি জানতে চাইলে তিনি এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

ওই সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মুন্সেফপাড়ার একটি পুকুর ও সদর উপজেলার মইনপুর বাজারের পশ্চিম দিকের একটি পুকুর ভরাট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসিল্যান্ডকে দিয়ে সেখানে অভিযান করাতে প্রতিবেদককে উল্টো পরামর্শ দেন।
তিনি জানিয়েছেন, পুকুর ভরাটের পর তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন, কিন্তু তার আগে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেন না। এবং সেই ব্যবস্থা হলো আদালতে মামলা করা।

জলাশয় ভরাটের ব্যপারে পরিবেশ আইন কি বলে?
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) ৬এর ঙ ধারা অনুযায়ী, জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাট বা অন্য কোনো ভাবে শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। এই আইন লঙ্ঘনকারীদের দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এ ছাড়া মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের জন্য প্রণীত প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনের (২০০০) ৫ ধারা অনুযায়ী, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। এ ছাড়া এ ধরনের জায়গা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর করা যাবে না।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array