Tepantor

ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে সামাজিক বনায়ন: বিনষ্টকারীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

30 May, 2025 : 3:33 pm
ছবি: ভেঙ্গে ফেলা গাছের চারা।

তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়গরের একটি রাস্তায় বন বিভাগ, এলজিইডি ও এলাকাবাসী মিলে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন করা হয়। পরবর্তীতে বনায়নের কিছু গাছ এলাকার কিছু মানুষ ভেঙ্গে ফেললে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা বন কর্মকর্তা, থানা, ইউএনও, এলজিএডি, জেলা প্রশাসক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কিছু দপ্তরে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছেনা। অভিযোগ আছে জেলা বন কর্মকর্তা চুক্তি ভঙ্গ করে সরাসরি অভিযুক্তদের পক্ষ নেওয়ায় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিজয়নগরের ফুলতলী মোড় থেকে আবদুল্লাহপুর মীর খাঁ বাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তায় বন বিভাগ, এলজিইডি ও কয়েকজন এলাকাবাসী মিলে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধমে গাছ লাগিয়ে সামাজিক বনায়ন করা হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৩ সালে এই চুক্তিনামা সম্পাদিত হয়। চ্ুিক্তর পর বন বিভাগ গাছ রোপন করেন।

এলাকাবাসীর মধ্যে উপকারভুগী হিসেবে চুক্তিতে রয়েছেন আব্দুস সাবিলের ছেলে জাকির হোসেন, বীর মুক্তিযুদ্ধা হোসেন আহমেদের ছেলে সালমান তারেক, মোস্তাক আহমেদ, পলাশ মিয়ার স্ত্রী হাদিসা বেগম, আব্দুল রশিদ মিয়ার ছেলে আব্দুল করিম আজাদ, কালা মিয়ার ছেলে মাহমুদুল আকাশ, উজ্জল মিয়ার স্ত্রী খাদিজা আক্তার রেভা ও কাজী আব্দুল মজিদের ছেলে কাজী মানিক। এদের মধ্যে মোস্তাক আহমেদ হলেন প্রকল্পটির সভাপতি। শত্রুতা বসত কয়েকজন লোক নিয়মিত ভাবে এই প্রকল্পের গাছ ভাংলে তিনি প্রথমে জেলা বন কর্মকর্তা মো: শাহজাহানকে অবগত করেন। এবং তার পরামর্শে থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্রও জমা দেন মোস্তাক। অভিযোগ আছে পরবর্তীতে থানা যেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয় সেজন্য অভিযুক্তদের সাথে যোগসাজসে বন কর্মকর্তা থানায় একটি লিখিত আবেদন করেন। যেখানে বলা হয়েছে অভিযুক্তদের পক্ষে যেন কোন ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।

মোস্তাক বলেন, বন কর্মকর্তা এর মাধ্যমে চুক্তিপত্রের ১০ নম্বর শর্ত লঙ্গন করেছেন। ১০ নম্বর শর্তে বলা আছে, কোন দুষ্কৃতিকারীর দ্বারা যদি বাগান ক্ষত্রিগ্রস্থ হয় তাহলে ৩য় পক্ষ উপকারভুগীগণ ১ম পক্ষের (বন কর্মকর্তা) সহায়তায় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এই শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বন কর্মকর্তা মো: শাহজাহান বলেন, আমি কোন চুক্তিতে সই করিনি। পরে চুক্তিতে সইয়ের কাগজ দেখালে তিনি বলেন এখানে আমি সাক্ষি হিসেবে সই করেছি। এছাড়াও তিনি বলেন, কয়েকটি গাছা ভাঙ্গার ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ দেওয়াটা কতটুকু যুক্তি বলেন? আমি বলেছি যে গাছগুলো রিপ্লেস করে দিবো, কিন্তু তবু সে শুনেনা। পরবর্তীতে আমি ইউনিয়ন পরিষদের একটি শালিসের আয়োজন করি কিন্তু সেখানে মোস্তাক যায়নি।

এবিষয়ে মোস্তাক বলেন, বন কর্মকর্তা অভিযুক্তদের সাথে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে শালিসে বসিয়েছেন, যেখানে আমি গেলে আমার উপর অভিযুক্তরা হামলা করতে পারতো। নিরাপত্তার কথা ভেবে আমি যেতে পারিনি।

এদিকে উপায় না পেয়ে জেলা বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরিবেশ,বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়, বন অধিদপ্তর এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সামাজিক বনায়নের সভাপতি লিখিত অভিযোগ করে প্রতিকার চেয়েছেন। অপরদিকে বিজয়নগর থানায় দাখিলকৃত এজাহার এর বিষয়ে পুলিশ কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না শুধুমাত্র বন কর্মকর্তার বাধার কারণে। সম্প্রতি সামাজিক বনায়ন পাহারা দেওয়ার ঘর এবং টয়লেট টি ভেঙ্গে ফেলে দুর্বৃত্তরা। মূলত ট্রীপ বাগান এলাকার আলাদাউদপুর মৌজার ১নং খাসখতিয়ানের বিএস দাগ নং ১১২, এর ৩৪ শতাংশ জমি নিয়ে জবরদখল কারীদের সাথে সামাজিক বনায়নের উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। জমিটির সীমানা নির্ধারণের জন্য ১২ জানুয়ারি ২৫ তারিখে সহকারী কমিশনার ভূমি বিজয়নগর, ইউএনও এর পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী, সর্বশেষ ১৯/৪/২৫ এ অতিঃ জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর নিকট সীমানা নির্ধারণের আবেদন দাখিল করেন সামাজিক বনায়নের সভাপতি মুস্তাক আহমেদ।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array