তেপান্তর রিপোর্ট:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র এক মাস। ভোট সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সশস্ত্র হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বাড়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযান চললেও মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক প্রার্থীরা।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে এখনো ১ হাজার ৫০০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৪৩ হাজারের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই বিশাল পরিমাণ বেহাত অস্ত্র বর্তমান পরিস্থিতির ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৭১০ জন দুর্ধর্ষ সাজাপ্রাপ্ত আসামি, যাদের একটি বড় অংশ এখনো গ্রেফতারের বাইরে রয়ে গেছে।
গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর থেকেই মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া গত সোমবার একদিনেই যশোর, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে তিনজনকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার গাজীপুরে এক রাজনৈতিক কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা নতুন করে ভীতি ছড়িয়েছে।
সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা মনে করেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের সঠিক তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে না থাকাটাকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রার্থীদের মধ্যে প্রাণহানির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানীকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে নির্বাচনী প্রচার চালাতে দেখা গেছে। অনেক প্রার্থী নিজের নিরাপত্তার জন্য নতুন করে অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করছেন।
তবে পুলিশ প্রশাসন এই অস্থিরতাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখছে। পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, গত ২৬ দিনে ২ শতাধিক অবৈধ অস্ত্রসহ ১৫ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিআইজি (অপারেশন্স) মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচনের আগে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অপরাধ দমনের চেয়ে পুলিশ রাজনৈতিক দল বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নও উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics