তেপান্তর রিপোর্ট:
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে গত এক মাস ধরে চলা নজিরবিহীন নৈরাজ্যে সাধারণ গ্রাহকের পকেট থেকে অন্তত ৩ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। ১২ কেজির সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায়ের মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চরম ভোগান্তির পর এখন সংকট মেটাতে আমদানির হাঁকডাক দিলেও লুটে নেওয়া অর্থের দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারে অতিরিক্ত দাম আদায়ের পাশাপাশি ৩৫ কেজির সিলিন্ডারেও গ্রাহককে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুণতে হয়েছে। অনেক এলাকায় দোকানের সামনে ‘গ্যাস নেই’ লিখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছিল। এই সুযোগে আমদানিকারকরা সরকারের কাছ থেকে ঋণসুবিধা বৃদ্ধি, ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানোর মতো নানাবিধ নীতিগত সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন। এমনকি ডিলার ও পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম এই পরিস্থিতিকে ‘অসৎ ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের প্রতিনিধিদের ভূমিকা দেখে মনে হয় তারা ভোক্তার অধিকার রক্ষার বদলে অসাধু ব্যবসার প্রসারে বেশি মনোযোগী। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষের টাকা লুটে নেওয়ার এই সংস্কৃতির অবসান হওয়া জরুরি।
এদিকে পরিস্থিতির চাপে পড়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) পক্ষ থেকে আমদানি বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসে ১ লাখ ৬৭ হাজার টন এবং ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৮৪ হাজার টন গ্যাস আসার কথা রয়েছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, আসন্ন রমজানের আগেই সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমদানিকারকরা। বেসরকারি খাতের পাশাপাশি এখন থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানও এলপিজি আমদানিতে যুক্ত হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রোজার আগে বাজার কতটা স্থিতিশীল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics