তেপান্তর রিপোর্ট:
ভারতের সিকিম ও হিমালয় অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়সহ সীমান্তঘেঁষা জেলাগুলোতে এই কম্পন অনুভূত হয়। মধ্যরাতের এই আকস্মিক ঝাঁকুনিতে আতঙ্কিত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৯ মিনিট থেকে ২টা ৩ মিনিটের মধ্যে সিকিম অঞ্চলে পরপর তিনবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে প্রথম কম্পনটির মাত্রা ছিল ৪.৫। এর কয়েক মিনিট পর ১টা ৪৫ মিনিটে ৩.৫ মাত্রা এবং রাত ২টা ৩ মিনিটে ২.২ মাত্রার আরও দুটি আফটারশক অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের গ্যাংটক, গেয়ালশিং ও মঙ্গন এলাকা।
ভূমিকম্পের প্রভাবে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী এবং দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া রংপুর, নীলফামারী, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা থেকেও মৃদু কম্পনের খবর পাওয়া গেছে। হঠাৎ আসবাবপত্র নড়ে ওঠায় ও ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিকিম ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চল একটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। বড় কোনো কম্পনের পর ছোট ছোট আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক হলেও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক থাকা জরুরি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, নেপাল ও চীনের কিছু অংশেও এই কম্পন অনুভূত হয়েছে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics