তেপান্তর রিপোর্ট:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কড়া নজরদারি ও সহিংসতা রোধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সারা দেশে নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আকাশ থেকে নজরদারি করবে এক হাজার ড্রোন। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চল, চরাঞ্চল ও দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি নিশ্চিত করতে বিমান বাহিনীর কারিগরি সহায়তায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এই ড্রোনগুলো সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে স্থাপিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেলে রিয়েল-টাইম তথ্য ও ভিডিও পাঠাবে। ড্রোন প্রযুক্তি মূলত ‘স্যাটেলাইট’-এর মতো কাজ করবে, যা দুর্গম পাহাড়ে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সহায়ক হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রযুক্তিগত এই নজরদারির পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় থাকবে ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব ও বিজিবিসহ মোট ২১টি আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থা। ড্রোনের মাধ্যমে কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা, অস্ত্র প্রদর্শন বা গোপন তৎপরতা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত ‘ই-মনিটরিং’ অ্যাপও ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষ নজরদারির আওতায় থাকছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প, টেকনাফ থেকে ফেনী পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকা এবং পার্বত্য জেলাগুলো। রোহিঙ্গা ভোটার বা বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে সেখানে বিশেষ স্কোয়াড মোতায়েন করা হবে। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের মাঠ স্বচ্ছ রাখতেই এই উদ্যোগ; পাহাড় কিংবা সমতল—কোথাও অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে সেকেন্ডের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক ড্রোনের ব্যবহার একটি বড় মাইলফলক, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে সহায়ক হবে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics