Tepantor

সিভিল সার্জনের প্রশ্রয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বাস্থ্যসেবায় নৈরাজ্য

25 February, 2026 : 5:07 pm
ছবি: সিভিল সার্জন ডাক্তার নোমান মিয়া

তেপান্তর রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে চিকিৎসাসেবার আড়ালে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এখন বেশ লাভজনক ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার নামে নিয়মিতভাবে রোগীদের হয়রানি, ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও দালালচক্রের মাধ্যমে রোগীদের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতাও চলছে। অথচ এই অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা রোধ করা যার যায়িত্ব অর্থাৎ সিভিল সার্জন, তিনি এসব বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেন না বা নিয়মিত তদারকি করেন না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বৈধ ও অবৈধ হাসপাতালের তালিকা চেয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পত্রিকার পক্ষ থেকে  সিভিল সার্জন ডাক্তার নোমান মিয়ার কাছে আবেদন করে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তালিকা পাওয়া যায়নি। সিভিল সার্জনের সাথে এবিষয়ে একাধিক বার যোগাযোগ করলে বরাবরের মতো “তালিকা দিতে আরও সময় লাগবে” বলে গড়িমসি করেন। তালিকার জন্য সর্বশেষ ২২ ফেব্রুয়ারি সিভিল  সার্জনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিলো। অভিযোগ আছে, বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কারনে ইচ্ছে করে সিভিল সার্জন এসব অবৈধ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা গোপন রাখছেন। আর এর ফলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া  স্বাস্থ্য সেবায় নৈরাজ্য চলছে। এ নিয়ে তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চালু করার আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন নিতে হয় এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একটি ক্লিনিক বা ডায়াগনোস্টিক সেন্টার চালুর জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি এবং পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রও প্রয়োজন। এছাড়া প্রতি অর্থবছরে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন নবায়ন করা বাধ্যতামূলক।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পুরাতন জেলখানার মোড় থেকে কুমারশীল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটারের মধ্যেই কয়েক ডজন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স বা পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই; কেবল আবেদন করেই তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ শুধু ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতেই ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার পরিচালনা করছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—জেলা শহরে প্রশাসনের চোখের সামনেই কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে?

এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের অনেকগুলোরই মানসম্মত রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি, অপারেশন থিয়েটার, পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষিত নার্স কিংবা দক্ষ ল্যাব টেকনোলজিস্ট নেই। নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ও সার্জনসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম সাইনবোর্ডে উল্লেখ থাকলেও তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রোগী দেখেন। ফলে রোগীর চাপ বেড়ে যায় এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ধার করা বা খণ্ডকালীন চিকিৎসকদের মাধ্যমে জটিল অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছে।

চলবে…

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array