Tepantor

কালের পরিক্রমায় বিলুপ্তির পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

4 February, 2020 : 6:55 pm

কাজী আশরাফুল ইসলাম বিপ্লব:: বিংশ শতাব্দীর ডিজিটালাইজেশন একে একে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার কুমোরপল্লীগুলো।তিতাস বিধৌত ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার আনাচে কানাচে একসময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য কুমোর পল্লী।কিন্তু মেলামাইন ও সিরামিকপন্যের কাছে বাজার হারিয়ে এবং মানুষের রুচির পরিবর্তন হওয়ায় দিন দিন মাটির তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা ব্যাপক হারে কমতে থাকে।তাই কুমোরপাড়ার মানুষেরাও জীবিকার তাগিদে অন্যান্য পেশার দিকে ঝুকে পড়ছে।যার জন্য একসময় জেলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য কুমোরপাড়ার সংখ্যা এখন প্রায় হাতে গোনার পর্যায়ে এসে ঠেকেছে।বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজারের পশ্চিম শিবনগর গ্রামের পালপাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই শিল্পের দুর্দশার করুন চিত্র।কুমোরপাড়ায় এখন আর আগের মত কর্ম ব্যাস্ততা নেই।দিপালী কর্মকার নামের একজন মৃৎশিল্পী বলেন,একসময় এই গ্রামের প্রতিটি ঘরে মাটির জিনিসপত্র তৈরি হলেও এখন সেই সংখ্যা গিয়ে মাত্র ৫০ ঘরে গিয়ে ঠেকেছে।নিয়তি রানী পাল নামের একজন বলেন,যে পরিশ্রম করে তারা এই পেশা টিকিয়ে রেখেছেন তার বিনিময় হিসেবে তারা যথেষ্ট মূল্যায়ন পাচ্ছেন।এছাড়াও তাদের উপার্জনের পরিমাণ এতই কমে গেছে যে এই পেশার মাধ্যমে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে।তাদের সকলের প্রত্যাশা একটাই সরকার যদি বিশেষ কোন ভাতা কিংবা সহজ শর্তে অল্প সুদে ঋণসুবিধা প্রদান করত তাহলে পরিবার পরিজন খেয়ে পড়ে বাচতে পারতো এবং ঐতিহ্যবাহী এই পেশাটাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাখতে পারতো।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array