আশরাফুল মামুন::ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় একই ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটানা ২৬ বছর ধরে কোরআন ও হাদিসের ইসলামের আলো ছড়িয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন অত্র উপজেলার মোগড়া ইউপির বাউতলা গ্ৰামে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও বাউতলা দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামীম এবং উপজেলা ইমাম পরিষদ মোগড়া ইউনিয়নের সভাপতি, হযরত মাওলানা তাফাজ্জল হক আকবরি। তার তত্ত্বাবধানে অত্র মাদ্রাসা থেকে শত শত ছাত্র কোরআনের হাফেজ হয়ে দ্বীন ইসলামের আলো ছড়াচ্ছেন । অত্র এলাকার গনমানুষ কে শিক্ষানুরাগী হয়ে দ্বীনের শিক্ষায় সু শিক্ষিত করতে এক টানা ২৬ বছর ধরে যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন উনার আত্মত্যাগে মুগ্ধ হয়ে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে হাফেজ মাওঃ তাফাজ্জুল হক আকবরী কে এক গন সংবর্ধনা
দেন এবং এসময় মাওলানা তাফাজ্জল হক সাহেবের সভাপতিত্বে
বাউতলা গ্রামবাসী কর্তৃক আয়োজিত বাউতলা দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক সভা ও হফেজ ছাত্রদের পাগড়ী প্রদান উপলক্ষে ২৬ তম ইসলামী মহা সম্মেলন এর আয়োজন করা হয়। পরিচালনায় ছিলেন কে এম ফখরুল ইসলাম ,
এতে সহ সভাপত্বি করেন মাওঃ মকবুল হোসেন সাহেব,
প্রধান অতিথি ছিলেন,আল্লামা মুফতি মোবারক উল্লাহ সাহেব, প্রধান বক্তা গাজী ইয়াকুব উসমানী, প্রধান আকর্ষনঃ মুফতী উবাইদুল্লাহ আল মাদানী, বিশেষ বক্তাঃ মুফতি ক্বারী হোসাইন আহমদ সাহেব,আনন্দপুর মাদরাসার মুহতামীম মাওঃ উবাইদুল্লাহ ভাদুঘরী,আখাউড়া ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওঃ কাজী মাঈনুদ্দিন, মাওঃ আবু আব্দুল্লাহ সহ দেশবরেণ্য অনেক আলেম উলামা।
পরে বক্তারা মাওঃ তাফাজ্জুল হক আকবরী সাহেব এর স্মৃতি চারন করে বলেন,,,আখাউড়া উপজেলার মধ্যে তিনিই একজন ইসলামী চিন্তাবিদ যিনি একাধারে ২৬ বছর যাবত একই স্থানে একই মসজিদে খেদমত করে আসছেন। এবং তার পাশাপাশি কোরআনের খেদমতের জন্য এই মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছেন যা এই উপজেলার মধ্যে আর কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। স্থানীয় এলাকা বাসী জানান, আমরা অনেক এলাকা ঘুরে দেখেছি কোনো মসজিদের ইনামই ৫ বছর অথবা ১০,১২ বছর একই স্থানে ছিলো শুনলেও ২৬ বছর সুনামের সাথে থাকার নজির একমাত্র তাফাজ্জল হক ই স্থাপন করেছেন। আমরা চাই আমাদের এই গর্বের ধন আমাদের কাছেই থাকুক জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
কিংবদন্তী মাওলানা তাফাজ্জল হক ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আলী আকবর মুন্সির পুত্র।
শিক্ষা জীবন::তিনি শিশু কাল থেকেই মেধাবী ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করার পরে তিনি ছাতিয়ান হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৮২ সালে কোরআনে হাফেজ হন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুউচ্চ ইসলামী বিদ্যাপীঠ জামিয়া ইসলামীয়া ইউনুছিয়া থেকে ১৯৯৪ সালে দাওরায়ে হাদীস ( মাস্টার্স সমমানের) ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্ম জীবন:: তিনি ১৯৯৪ ইং সালের শেষ দিকে বাউতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব ও বাউতলা ঈদগাহ ময়দানের খতিব হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। কিছু দিন পরেই তিনি তাহার নিজ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত করেন বাউতলা দারুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা।
যে প্রতিষ্ঠান থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক কোরআনের হাফেজ হয়েছে।
হাফেজ মাওঃ তাফাজ্জুল হক আকবরী সাহেব তার কর্ম জীবনের শুরু থেকেই অত্যন্ত হাসি খুশি, সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় উত্তম চরিত্রের সাথে এই গ্রামে প্রায় ২৬ টি বছর অতিবাহিত করেছেন। উনার সুন্দর চরিত্র সকল মানুষের মাঝে এক উজ্জ্বল অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। উনার কর্ম জীবনে আজ পর্যন্ত কারো সাথেই কোনো প্রকার মতানৈক্য হয় নাই। সুন্দর ব্যবহার আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে হাফেজে কোরআন তৈরি হওয়ার যোগ্যতায় মুগ্ধ হয়ে এলাকা বাসী তাহাকে এই সংবর্ধার আয়োজন করে।
তার চার ছেলে তিন মেয়ে রয়েছেন।
বড় মেয়েকে হাফেজ মাওঃ মুফতী ডিগ্রি ধারী স্বামী কাছে বিবাহ দিয়েছেন।
বড় ছেলে গত বছর দাওরায়ে হাদীস ( মাস্টার সমমান) মাওলানা ডিগ্রি অর্জন করেছে। বাকি দুই ছেলে কোরআনে হাফেজ হয়ে অধ্যয়ন রত রয়েছে। বাকী সবাই-ই ইসলামী শিক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics