Tepantor

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসন্ন খতমে নবুওয়াতের সম্মেলনকে ঘিরে আতঙ্কিত আহমদীয়া সম্প্রদায়ের লোকজন

23 February, 2020 : 4:57 pm

কাজী আশরাফুল ইসলাম: কাদীয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার দাবিতে আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি “আন্তর্জাতিক মজলিশে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত” ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবার কথা রয়েছে হেফাজতে ইসলামের আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফি। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরামগন। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সম্মেলনস্থল  ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়ার জেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে প্যান্ডেল ও তোরণ নির্মানের কাজ চলছে। সম্মেলন সফল করতে পুরো জেলাতেই নেয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে চলছে স্থানীয় আলেমসমাজের নেতৃত্বে পরামর্শ ও প্রস্তুতি সভা।পুরো শহরের দেয়াল জুড়ে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে সম্মেলনকে সফল করার আহবান জানিয়ে তৈরিকৃত পোস্টার।বিভিন্ন ইসলামপন্থী যুব সংগঠনের পক্ষ থেকে বিতরণ করা হচ্ছে “কাদিয়ানী কাফের” লেখা সম্বলিত লিফলেট। গত জুম্মার খুতবায় জেলার প্রায় প্রতিটি মসজিদের খতিবগন বয়ান দিয়েছেন “কাদিয়ানী কাফের” সংক্রান্ত বিষয়ে। বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাক্তি এবং সাংগঠনিক উদ্যোগে চাদা তুলা হচ্ছে সভাস্থলে মিছিলের যাতায়াত এবং যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করার জন্য।সবাই তাকিয়ে আছেন ২৭ তারিখ মাওলানা আহমদ শফি কী ঘোষণা দেন সেই দিকে।

সম্মেলন সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লীর জমায়েত হবার কথা রয়েছে উক্ত সম্মেলনে। কিন্তু সম্মেলন ঘিরে যেমন রয়েছে উত্তেজনা তেমনই রয়েছে চরম উৎকন্ঠাও।

ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে আহমদীয়া সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে।অনেক কাদিয়ানী তাদের ঘরবাড়ি ও জানমালের উপর হামলার আশঙ্কা করছেন। এছাড়াও ওই সম্মেলনে ইসলামী নেতারা কি ঘোষণা দেন তা নিয়েও তারা খুব চিন্তিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আহমদীয়া সম্প্রদায়ের একজন বলেন,আমরা শত বছর যাবত এই এলাকায় সকল আকীদার মুসলিমদের সাথে মিলেমিশে শান্তিপুর্নভাবে বসবাস করে আসছি।কিন্তু আজ ধর্মের দোহাই দিয়ে একশ্রেণির সাম্প্রদায়িক শক্তি আমাদেরকে জোরপূর্বক আকীদা পরিবর্তন করতে বলছে। তা না হলে আমাদেরকে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে বলছে।আমরা এখন স্বাধীন দেশে পুলিশি প্রহরায় দিনযাপন করছি। এসময় তারা এই বিষয়ে সরকারের সহায়তা চান এবং উচ্চপর্যায়ের আলেমদেরকে ধর্মের বিষয়ে আরও নমনীয় হওয়ার আহবান জানান। তারা বিদায় হজ্বে দেয়া হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ভাষনের উদ্ধৃতি টানে বলেন, যেখানে নবীজি কাউকে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন।

এবিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত প্রদান নিয়ে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার অনেক জায়গা বিরাজ করছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।

ইতিমধ্যে ওলামা মাশায়েখদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট সম্মেলন করার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান তেপান্তরকে বলেছেন,আবেদন পেয়েছি। এখন পুলিশি প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনুমতি প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে সকল আহমদীয়া আনুসারীদের এলাকায় মোতায়েন রয়েছে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহাড়া। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে অন্যান্য জেলা থেকেও আনা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

সম্মেলনকে ঘিরে পুলিশ প্রশাসনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান তেপান্তরকে বলেন,”জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নিকট ওলামা মাশায়েখদের পক্ষ থেকে আবেদন করেছেন বলে শুনেছি। উনি পরিস্থিতি যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দিবেন।তবে কেউ যাতে বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করে জনগণের জানমালের কোন ক্ষতি করতে না পারে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা আব্দুর রহমান কাসেমী তেপান্তরকে বলেন,আমরা চাচ্ছি এই সম্মেলনে ব্যাপক জনসমাগম ঘটিয়ে সরকারকে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরতে। যাতে সরকার বাধ্য হয়ে সংসদে কাদিয়ানী কাফের সংক্রান্ত আইন পাশ করে। কারন এটি এখন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এবং সময়ের দাবীও বটে।ঐদিন কোন ধরনের সংঘর্ষের কিংবা আহমদীয়াদের ঘরবাড়িতে হামলার আশঙ্কা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,কোন দুষ্কৃতকারী যদি আমাদের শান্তিপূর্ন আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য চেষ্টা করে, কিংবা তারা নিজেরাই যদি তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে দেয় সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নাই।আমরা চাই না কোন সংঘর্ষ করতে, যেহেতু তাদের সংখ্যা আমাদের তুলনায় অতি নগন্য।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array