Tepantor

করোনা লকডাউনে জানাজা দেখতে জমাট বেঁধে  দাঁড়িয়ে থাকা যায়,নামাজ পড়া যায় না

30 April, 2020 : 12:55 pm

আসাদুজ্জামান আসাদঃ গতকাল ২৯এপ্রিল বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মধ্যপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াহিদুল হক ওয়াহাবের মৃত্যুতে এলাকার মৌলভীপাড়ার মসজিদে জানাজার নামাজের ব্যবস্থা করা হয়,প্রশাসনের পক্ষ হতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এর ইউএনও এবং সদর থানার ওসির উপস্থিতিতে ১২জনের জানাজা নামাজ আদায় বাস্তবায়ন করা হয় কিন্তু সেই জানাজার নামাজ দেখতে জমাট বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিল প্রায় দুই শতাধিক মানুষ।তা নিয়ে ই এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করছে প্রশাসনের প্রতি।

এই ব্যাপার ওই মসজিদের ইমাম খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দেয়া পোষ্ট হুবহু তুলে ধরা হল, ” আমাদের মহল্লায় এক ব্যক্তির সাধারণ মৃত্যু হয়েছে, তো জানাযার জন্য আমাদের মসজিদে লাশ আনা হলো। চার পাশে দাঁড়ানো ছিলো শ’ দেড়শো মানুষ, পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তা। সকলের দাবি ছিল একটাই! জানাযাতে যেন ১২ জনের বেশি মানুষ না হয়। আজকের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো চতুর্দিকে এত মানুষ দাঁড়িয়ে থাকা যায় কিন্তু জানাজায় এসে দাঁড়াতে পারে না ১২ জনের বেশি। ইমাম এবং মুয়াজ্জিন দুইবার নামায পড়িয়েছে আর দু’বার ই ১২+১২=২৪ জন। যারা জানাযায় শরিক হয়েছে তারা ঠিকই  নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছিল কিন্তু চারপাশ দিয়ে যারা পাহাড়া দিয়েছে  তারা তো একজনের সাথে একজন লেগে দাঁড়িয়েছিল। বোকার দল, পাশে জমাট বেঁধে দাড় করিয়ে রাখতে পারে কিন্তু জানাযায় শরীক হতে দেয়া যায়না।”

এ ব্যপারে মৃত ব্যক্তির সন্তান আলভীন জানান,আমার বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিবে ছিলেন।গতকাল ইফতারে পরে বাবা মারা যান। লোক সমাগম এড়াতে আমরা তারাবিহ নামাজের পর এলাকার মসজিদে জানাজার নামাজের ব্যবস্থা করি।তখন প্রশাসনের বাঁধার মুখে মাত্র ১২ জন নামাজ আদায় করতে পারি।আমাদের অনেক আন্তীয় উপস্থিথ থাকলেও জানাজার নামাজ আদায় করতে পারে নি।

মধ্যপাড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন,প্রশাসন এখন লোক দেখানো নাটকের লকডাউন পালন করছে।বাস্তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোন লক ডাউন নেই।বাজার,ব্যাংক,প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পরিবহনে দৈনিক শত শত মানুষ একত্রিত হচ্ছে সে দিকে খেয়াল নেই।শুধু মসজিদ এবং জানাজার নামজেই লকডাউনের আইন পাকাপোক্ত ভাবে প্রয়োগ  করছে।গতকাল জায়নামাজে ও তাই ঘটেছে।তবে নামাজ দেখতে শত শত মানুষের ভীর ছিল যা প্রশাসন ঠেকাতে ব্যার্থ হয়েছে।মানুষ দাঁড় করিয়ে নামাজ দেখাতে আপত্তি ছিল না প্রশাসনের শুধু অংশগ্রহণেই যত আপত্তি দেখিয়েছেন।

এই ব্যপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর এর ইউএনও পঙ্কজ বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি তেপান্তরকে বলেন,আমরা খবর পাওয়ার পর জানাজার নামাজ ও করবস্থানে উপস্থিথ ছিলাম এবং ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী সব কিছু করা হয়েছে।মানুষের ভীড় এর ব্যাপার ওই সময় সেখানে আমার সাথে সদর থানার ওসি সেলিম উদ্দিন ও উপস্থিত ছিলেন ওনার সাথে কথা বলেন। এ ব্যপারে বার বার চেষ্টা করেও সদর থানার ওসির সাথে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array