আসাদুজ্জামান আসাদঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফ্লাইওভার এর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় উড়ন্ত ঘুড়ির ধারালো সুতায় লেগে ১৮বছরের দুই তরুণ আহত।
বাংলাদেশে এই সিজনে ঘুড়ি উড়ানো খুবই জনপ্রিয় একটি খেলা।প্রতি বছর ই এই সময় আকাশে তাকালেই রং-বেরঙের ঘুড়ি উড়তে দেখা যায়।কিন্তু সেই মজার খেলা ই কাল হয়ে দাঁড়ায় অনেকের জন্য। কারন কাচের গুঁড়ো দিয়ে ঘুড়ির সুতা ধারালো করা হয়ে থাকে। একে স্থানীয়ভাবে ‘মাঞ্জা’ বলা হয়। মূলত অন্যের ঘুড়ি কেটে নিচে নামানোর জন্য সুতায় কাচের গুড়ো ও আঠা দিয়ে ধারালো করা হয়। তবে এতে প্রায়ই অনেকের আহত হওয়া এবং প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটে থাকে ।
গতকাল শুক্রবার (১ই মে) সন্ধ্যায় মোটর সাইকেল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর পৌর এলাকার রেল ক্রসিং ফ্লাইওভার এর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় উড়ন্ত ঘুড়ির ধারালো সুতায় লেগে মধ্যপাড়া (শান্তিবাগের) সাইম আল(১৮) নামের এক তরুণের গাল,কান,ঠোঁট কেটে যায় এবং মোটরসাইকেলের পিছনে থাকা মধ্যপাড়া (ইমাম বাগের)নিলয়(১৮) গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়।

এ ব্যাপারে আহত সাইম আল তেপান্তর কে বলেন,গতকাল দুস্থদের মাঝে ইফতার বিতরণ শেষে মোটরসাইকেল চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর পৌর এলাকার কাউতুলি হতে মধ্যপাড়া আমাদের বাড়ি দিকে ফেরার পথে ফ্লাইওভার এর উপর দিয়ে টিএরোড এর দিকে নামার সময় হঠাৎ একটি উড়ন্ত ঘুড়ির সুতা আমার গালে-মুখে লাগে।তখন গাড়িটি ব্রেক করতে গিয়ে পড়ে যায়।আমার মোটর সাইকেলের পিছনে থাকা আমার বন্ধু নিলয় ও তখন আহত হয়।
সাইম এর বাবা জামাল হোসেন তেপান্তরকে জানান,দুর্ঘটনার কথা শুনে সেখানে গিয়ে আমার ছেলেকে সাথে সাথে গ্লোবাল হাসপাতালে নিয়া আসি, এখানে ৩ঘন্টা সার্জারির পর ডাক্তার তাকে আশংকামুক্ত বলে জানান এবং তার মুখে,গালে ও কানে মোট ২১৩টি সেলাই দেয়া হয়েছে বলে ও জানান।আল্লাহর রহমত গালে না লেগে যদি গলায় লাগত তবে নিশ্চিত মৃত্যু হত।
কর্তৃপক্ষ বলছে, নাইলন, প্লাস্টিক কিংবা কাচের গুঁড়ো দিয়ে মাঞ্জা দেয়া সূতা তৈরি ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হবে। কেউ এ আইন না মানলে শাস্তি পেতে হবে তাদের।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics