Tepantor

অল্প বৃষ্টিতেই পানিতে ভাসে শরীফপুর,দীর্ঘ এক যুগেও মেলেনি প্রতিকার

18 June, 2020 : 2:46 pm

কাজী আশরাফুল ইসলাম: ঘন্টা খানেক বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ০১ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত শরীফপুর এলাকা।বর্ষাকালে এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌছায়।একঘন্টা টানা বৃষ্টি হলে পুরো এলাকা হাটুপানির নীচে চলে যায়।বৃষ্টিতে জমা পানি নিষ্কাশিত হতে সময় লেগে যায় প্রায় দুই থেকে তিন ঘন্টা।বৃষ্টির পানির সাথে ড্রেনের ময়লা পানি প্রবেশ করছে বসতবাড়ীতে।নোংরা পানির গন্ধে এবং জলাবদ্ধতায় এলাকাবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

এছাড়াও জলাবদ্ধতার জন্য বিভিন্ন ধরনের পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।দুর্বল ড্রেনেজ সিস্টেম, কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবকেই দায়ী করছেন এলাকাবাসী।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ বারো বছরেও পৌরসভার পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি।তারা বলছেন,শরীফপুর এলাকার পশ্চিম ও উত্তর পাশেই বিশাল চাষাবাদ করার জমি রয়েছে।পৌরকর্তৃপক্ষ চাইলেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রনয়নের মাধ্যমে এই পানিকে খুব সহজে যেকোন একপাশে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারে।তাদের অভিযোগ, কোন এক অদৃশ্য কারনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং পৌর মেয়র এলাকার দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যমান এই সমস্যাটি সমাধান করছেন না। তারা একটু সুনজর দিলেই এই সমস্যার সহজ সমাধান হয়ে যেত।

এক যুগ যাবত কেন কোন পদক্ষেপ নেয়া হল না এবং জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ড্রেন নির্মাণ করার কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে সাবেক স্থানীয় কাউন্সিলর এবং বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ সদস্য সাদেকুর রহমান শরীফ তেপান্তরকে বলেন,”আমি কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে পৌরকর্তৃপক্ষ আর কোন কাজ কেন করেনি তা আমার জানা নেই।”এছাড়াও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পৌর এলাকায় জেলা পরিষদ সরাসরি কোনো কাজ করতে পারেনা এবং এক্ষেত্রে কোন কাজ করতে গেলে পৌর মেয়রের অনুমতির প্রয়োজন হয় বলে তিনি জানান।

পৌরসভার পক্ষ থেকে কেন কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না এবং অচিরে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বর্তমান কাউন্সিলর জামাল হোসেন তেপান্তরকে বলেন,”আমি ইতিমধ্যেই শরীফপুরের ড্রেনেজ সমস্যাটি পৌরসভায় দরখাস্ত আকারে জমা দিয়েছি এবং এ ব্যাপারে একটি টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন যা করোনা পরিস্থিতির কারনে আটকে আছে।” আর জেলা পরিষদ সদস্যের কাজ করার স্বদিচ্ছা থাকলে পৌর কাউন্সিলর হিসেবে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।তিনি আরও বলেন, “সত্যি যদি উন্নয়ন করার চিন্তা থাকে তাহলে সবাইকেই পাশে পাওয়া যায়।জেলা পরিষদ সদস্য কাজ করতে চান না বলেই পৌর কর্তৃপক্ষের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইছেন।”
বর্তমান ও সাবেক সকল জনপ্রতিনিধি ও সচেতন সমাজ এগিয়ে এলে দ্রুতই এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে বলে আশা করছে এলাকাবাসী।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array