তেপান্তর রিপোর্ট: নাম রোকসানা বেগম (৫০), কিন্তু ডাক নাম শানি বা শানু। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘর ঋষিপাড়া এলাকায়। পেশায় একজন মাদক ব্যবসায়ী। এলাকার মানুষ বলে মাদক সম্রাজ্ঞী। এই মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্নে করার জন্য যখন যা করা দরকার তাই করেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের সাথে সু-সম্পর্ক রেখেই ব্যবসা করছেন তিনি। আবার সেই ব্যবসায় কেউ বাধা দিলে তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। এসব কু-কর্মের প্রতিবাদ করে কেউ হয়েছেন এলাকা ছাড়া আবার কারো বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছে মিথ্যা মামলা। প্রয়োজনে নিজের যুবতী মেয়েকে ধর্ষণ করেছে বলেও অভিযোগ তুলতে দ্বিধাবোধ করেনা সে। শানির এসব কর্মকান্ডে অতিষ্ট ও আতঙ্কিত ভাদুঘর এলাকার মানুষ। এলাকাবাসী বলছেন এ যেন এক “লেডি সন্ত্রাসী”।
তেপান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, শানির স্বামী শহরের উত্তর মৌড়াইলের মুর্শিদ খান মারা যাওয়ার পর অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠে শানি।
পরে ভাদুঘর তার বাবার বাড়িতে বুক ফুলিয়েই করছে তার মাদক ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকা সত্বেও বুক ফুলিয়ে চলে সব জায়গায়।
গত ঈদুল ফিতরের ২ দিন আগে আলী নিজাম নামে ভাদুঘর বাজারের এক ব্যবসায়ী শানির মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার কারনে আলী নিজামের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরন মামলা ঠুকে দেয় শানি। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোতালেব অপহরনের অভিযোগের কোন সত্যতা পাননি। মামলা গ্রহন না করায় গ্রহন করার জন্য অনেক উপর মহল পর্যন্ত তদ্বীর করেছেন শানি।
আলী নিজাম বলেছেন, আমি যেন শানির মাদক ব্যবসায় আর বাধা না দেই তাই আমার বিরুদ্ধে থানায় অপহরনের এজাহার জমা দিয়েছে। কিন্তু আমি কেন তার ৩ বছরের নাতিকে অপহরন করে আমার দোকানে লুকিয়ে রাখবো?
কবীর হোসেন নামে ভাদুঘরের এক বাসিন্দা শানির অত্যাচারে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কবির বলেন, শানি তার মাদক ব্যবসার জন্য আমার বাড়ি ব্যবহার করার চেষ্টা করতো। তখন আমি তাতে বাধা দেই। পরে শানি আমার বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলাসহ মোট তিনটি মামলা করে দেয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শানির মেয়েকে নাকি আমি ধর্ষণ করেছি। এই মামলায় আমি জেল খেটেছি। কিন্তু সর্বশেষ আমার বিরুদ্ধে সদর থানার রিপোর্টে তিনটি মামলাই মিথ্যে বলে প্রমানিত হয়। এঘটনায় আমিও তার বিরুদ্ধে মামলা করি। কিন্তু এঘটনার পর শানির পালিত সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে আমি আর ভাদুঘর টিকে থাকতে পারিনি। পরে বাধ্য হয়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যাই।
মোঃ জাকির হোসেন রাসেল নামে ভাদুঘরের এক আইনজীবী গত ২১ জুন শানির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এডভোকেট জাকির হোসেন এ ব্যপারে তেপান্তরকে বলেন, ১২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হোসেন কাউন্সেলর থাকাকালীন সময়ে তার প্রত্যক্ষ মদদে শানু বেগম অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক ক্ষমতাধর হয়ে উঠে। বর্তমানে এমন অনেকের সাথেই আছে তার সু-সম্পর্ক। তারা যদি এসব মাদক ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় না দিতো তাহলে আমাদের গ্রামটি আরো সুন্দর ও ভালো থাকতো।
ভাদুঘর এলাকায় কথিত আছে যে, ওই এলাকার মলাই মিয়ার ছেলে রাহিম মিয়া ও শানি বেগম লিভ টুগেদার করছেন। কোন বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া একসাথে বসবাস করে রাহিম শানিকে মাদক ব্যবসায় সহযোগীতা করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিদায়ী পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান কর্তৃক পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের সময় শানু বেগমের বাড়ি ঘর গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে ভাদুঘরের সাবেক কাউন্সেলর আক্তার হোসেন বলেন, শানিকে কখনোই আমি মাদক ব্যবসা করার জন্য প্রশ্রয় দেইনি। তবে সে আগে মাদক ব্যবসা করতো, এখন করেনা। এলাকার কিছু লোক শানির বিরুধীতা করে তাকে বিপদে ফেলতে আগের ঘটনা গুলো সামনে আনছে।
তিনি আরো বলেন, রাহিম নামের যেই ছেলে শানির সাথে থাকে সে মূলত তার স্বামী। তবে শানির আগের স্বামীর আত্নীয় হলো আইনমন্ত্রী। তাই শানি প্রশাসনের দিক দিয়ে অনেক প্রভাব খাটাতে পারে।
ভাদুঘরের বর্তমানে বহিষ্কৃত কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম নেহার তেপান্তরকে বলেন, শানি আগে মাদক ব্যবসা করলেও এখন সে করেনা। কিছু লোক ব্যক্তিগত বিরুধের জন্য তার আগের ঘটনা টেনে আনছে। তবে এটা ঠিক, কিছুদিন আগে একটি বাচ্চা অপহরনের ঘটনা সাজিয়ে আলী নিজাম নামে ভাদুঘরের এক ব্যবসায়ীকে ফাসাতে চেয়েছিল। সেটি ছিল একটি মিথ্যা অভিযোগ,তা সবাই জানে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics