
কাজী আশরাফুল ইসলাম: অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের বেসরকারি এম্বুলেন্স বাণিজ্য। অবসান হলো প্রায় অর্ধ যুগের বেসরকারি এম্বুল্যান্স মালিক সমিতির অবৈধ আধিপত্যের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বেসরকারি এম্বুলেন্স মালিক সমিতির ব্যানারে দীর্ঘদিন যাবৎ সদর হাসপাতালের বেসরকারি এম্বুলেন্স প্রবেশ এবং যাত্রী পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করছিল একটি দালাল চক্র। তাদের কাছে সাধারণ রোগীরা ছিল অসহায়। বেসরকারি এম্বুলেন্স মালিক সমিতির সিরিয়াল ছাড়া কোন এম্বুলেন্স সদর হাসপাতালে প্রবেশ কিংবা বাহির হতে পারতো না। চক্রের মূল হোতা হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের নাম শোনা গেলেও তেপান্তরের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রের মূল হোতা ছিলেন রফিক নামে নার্সিং ইনস্টিটিউটের এক কর্মচারী যার বাড়ি ছিল টাঙ্গাইল। সদর হাসপাতালের এম্বুলেন্সের সরকারি ড্রাইভার হওয়া স্বত্বেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা গড়ে বিশাল দালাল চক্র গড়ে তুলেন রফিক।রফিক নিজেই ব্যাক্তিগতভাবে ছিলেন পাচটি এম্বুলেন্সের মালিক।এই দালাল চক্র এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠে যে সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন তেপান্তরের কাছে অসহায়ত্ব তুলে ধরেন।রাজনৈতিক কারনে বিভিন্ন সময় দালালবিরোধী অভিযান বাধাগ্রস্ত হতো বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
সাধারণ রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালায় তেপান্তর। বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক রাঘববোয়ালদের নাম। এনিয়ে গত ২১ আগষ্ট তেপান্তরে রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেন জেলার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা। তারপরই বদলি করা হয় রফিককে।
সদর হাসপাতালের গেটের ভিতর বেসরকারি এম্বুলেন্স মালিক সমিতির নামে টানানো ব্যানার ও অস্থায়ী কার্যালয় উচ্ছেদ করা হয়। বদলী করা হয় চক্রের অন্যতম মূল হোতা রফিককে।এতে স্বস্তি নেমে আসে সাধারণ এম্বুলেন্স ড্রাইভারদের মনে। সাধারণ রোগীরাও দালালচক্রের হয়রানি কিছুটা কমে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন।
রফিকের বদলির ব্যাপারটি নিশ্চিত করার জন্য যোগাযোগ করা হলে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ একরামুল হক বলেন,”বেসরকারি এম্বুলেন্স মালিক সমিতির নৈরাজ্যের কথা দীর্ঘদিন যাবৎ শুনে আসছিলাম। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে তেপান্তরের রিপোর্টে রফিক নাম আসার পর তার নামে আসা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পর তাকে নোয়াখালী জেলায় বদলী করা হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালের ভেতরে থাকা সকল এম্বুলেন্স দালালদের হাসপাতালে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ”
হাসপাতালে বেসরকারি এম্বুলেন্স প্রবেশে কড়াকড়ির বিষয়টি স্বীকার করেছেন সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics