৩ মাসেও গ্রেফতার হয়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিক নামধারী কুখ্যাত দুই ভাই

৩ অক্টোবর, ২০২০ : ৬:০৯ অপরাহ্ণ ৫০৬

তেপান্তর রিপোর্ট: মামলার পর প্রায় ৩ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো ধরাঁছোয়ার বাইরে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কথিত দুই অপসাংবাদিক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সদস্যসহ প্রায় সকল সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর ফেইসবুক স্ট্যাটাস ও ভিডিও তৈরি করে তা ফেইসবুকে প্রচার করার অভিযোগে গত ৭ জুলাই লিটন ও শাখাওয়াত (শাহিন) নামে আপন দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের তৎকালীন সদস্য সচিব দীপক চৌধুরী বাপ্পী। কিন্তু মামলার প্রায় ৩ মাস হয়ে গেলেও এখনো কোন আসামী ধরা না পড়ায় অসন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিক সমাজে।

আসামীরা হলো, লিটন হোসাইন জিহাদ ও তার ছোট ভাই মোঃ শাহিন মিয়া ওরফে আর জে শাখাওয়াত। তাদের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার কামালপুর গ্রামে।

গত ১৬ জুন লিটন হোসাইন জিহাদ তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেন, “পথিক টিভির সমালোচনাকারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সেই সকল সদস্যদের প্রতি আমার ঘৃণা। তাদের জন্ম পরিচয় নিয়ে আমার সন্দেহ আছে”।
এর আগে পথিক টিভির ফেইসবুক পেইজে লিটনের ছোট ভাই শাখাওয়াতের উপস্থাপনায় ও আরেকটি ভিডিওতে লিটনের নিজের কন্ঠ দিয়ে দুইটি ভিডিও প্রচার করা হয়,যেখানে জগণ্য কথাবার্তা বলা হয়।
ভিডিও দুটিতে বলা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকরা একসময় পথিক টিভির অফিস ঝাড়ু দিতো,তাদের অফিসে ঘুমাতো ও খাবার খেতো। যারা পথিক টিভির সমালোচনা করে তারা পথিক টিভিতে চাকরি না পেয়ে সমালোচনা করে। লিটনের কন্ঠ দিয়ে যে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে সেখানে লিটন সমালোচক ও সাংবাদিকদের জন্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভিডিও দুইটিতে সাংবাদিক ও সমালোচকদের নর্দমার কিটের সাথেও তুলনা করা হয়েছে।

এসব কর্মকান্ডের পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে দীপক চৌধুরী বাপ্পী মামলাটি করেন।
দুই ভাই লিটন ও শাখাওয়াত দীর্ঘদিন যাবৎ “পথিক টিভি”,“পথিক নিউজ.কম”,“বাংলাদেশ ইনফরমেশন টেকনোলজী টিম (বিট)”,“রেডিও বিট”,“বিট মিডিয়া” নামে কথিত বিভিন্ন নাম তৈরি করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতো। মামলার পর অনেক ভুক্তভুগী প্রেসক্লাবে এসে এসব অভিযোগ করেন। এই অভিযোগ আনা হয় মামলার এজাহারেও।

এছাড়াও লিটনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও নতুন নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ও প্রবাসের একাধিক নারীর সাথে তার রয়েছে অবৈধ সর্ম্পক। সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাগেরহাট জেলার জুলি (সেজুতি জুতি) নামে এক তালাকপ্রাপ্ত নারীর সাথে অবৈধ সর্ম্পক করে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল লিটন। প্রতারণার শিকার হয়ে জুলি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবি সমিতি ,ছাত্রলীগ নেতা ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছিল।

বাংলাদেশ ইনফরমেশন টেকনোলজী টিম (বিট) নামে কথিত সংগঠন তৈরি করে তরুন-তরুনীদের ব্যবহার করে বড় বড় অনুষ্ঠান করে সমাজের এক শ্রেণীর মানুষের কাছ থেকে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিতো লিটন। তার অফিসে ছিল তালাকপ্রাপ্ত নারী,বিয়ে না হওয়া নারী,কিছু নারী রাজনীতিবিদ ও শহরের কিছু কথিত নারী সঙ্গীত শিল্পীদের আনাগোনা।

এছাড়াও লিটনের বিরুদ্ধে পথিক টিভি ও পথিক নিউজের কার্ড বিক্রি করে টাকা হাতানো, যে কাউকে সাংবাদিক বানিয়ে দেওয়ার প্রলোভনে টাকা হাতানোসহ এমন অনেক অভিযোগ আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রকৃত সাংবাদিকরা মনে করছেন, লিটনের মতো একজন জগণ্য অসাধু লোককে গ্রেফতার করা এখন সময়ের দাবী। যদিও মামলার পর সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু আসামীরা অন্য কোন জেলা থেকেও এমন প্রতারণামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই তাকে গ্রেফতার করে অচিরেই আইনের আওতায় আনার দাবী সাংবাদিক মহলের।এমনকি,লিটনের মতো অপসাংবাদিকদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তাদেরকেও চিহ্নিত করার আহবান জানান অনেকেই।

এবিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি (অপারেশন) ইসতিয়াক আহমেদের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে কল করলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মামলার বাদী সাংবাদিক দীপক চৌধুরী বাপ্পী তেপান্তরকে জানান, আসামীরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিক সমাজে অসন্তুষ্টি তৈরি হয়েছে। পুলিশের উচিৎ আসামীদর অচিরেই খুজে বের করে তাদের গ্রেফতার করা। তা না হলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কঠোর আন্দোলনে নামা হবে।

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।