আশরাফুল মামুন: রেললাইনের অদূরে খেলা করছিল ১৩ বছরের ইফাদ ও তার অন্য বন্ধুরা। হঠাৎ রেলসেতুর মাঝামাঝি রেললাইনের স্লিপারের আগুন আর ধোঁয়ার কুন্ডলী তার চোখে পড়ে। বাড়ির পাশে রেললাইন হওয়ায় সে জানে একটু পরই চলে আসবে ট্রেন। রেললাইনে আগুন জ্বলতে দেখেই সে দৌড়ে বালতি ভর্তি পানি নিয়ে আসে এবং ওই জলন্ত ধোঁয়ার কুন্ডলীতে বালতির পানি নিক্ষেপ করে। এ মূহুর্তেই আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মালবাহী একটি ট্রেন রেলসেতুতে প্রবেশ করে। জ্বলে উঠা আগুনও তখন নিভে যায়।
কিশোর ইফাদ ট্রেনের সামনে থেকে কোনরকমে লাফিয়ে সেতুর খুটির মাঝে বসে জীবনরক্ষা করে। দুর্ঘটনামুক্ত ট্রেনও গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর আউটার সিগন্যাল এলাকার পাশে এ ঘটনা ঘটে। কিশোর ইফাদের জীবনবাজি রেখে তার বুদ্ধিমত্তায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই চট্টগ্রামগামী মালবাহী ট্রেন। বিপদ থেকে বাঁচলেন ট্রেনটির চালক, গার্ডসহ ট্রেনে বহনকৃত মালামাল।
বিষয়টি দূর থেকে একজন সংবাদকর্মী ভিডিও ধারণ করেন। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছে স্কুলছাত্র ইফাদ।
কিশোর ইফাদ জানান, তার বাড়ির পাশে রেলসেতু। পাশেই বন্ধুদের নিয়ে খেলা করছিল।
হঠাৎ রেলসেতুর স্লিপারে আগুন আর ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখে। এ অবস্থায় ট্রেন চলাচল করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঘটতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে সে দৌড়ে বালতি ভর্তি পানি দিয়ে আগুন নিভায়।
ইফাদ ওই ইউনিয়নের গঙ্গানগর গ্রামের বাসিন্দা। আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের সুপারিন্টেন্ডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জানতে পেরেছি স্কুলছাত্র ইফাদের বুদ্ধিমত্তায় ও সচেতনতার জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। তার এ ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবিহিত করা হয়েছে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics