Tepantor

দুর্নীতিতে ঠিকাদার–বাখরাবাদ একাট্টা, অবৈধ সংযোগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস সংকট

7 January, 2026 : 7:38 pm

নীলা | ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চলমান ভয়াবহ গ্যাস সংকটের পেছনে প্রকৃত কারণ এখন আর গোপন নয়,আর সেটি হলো অবৈধ গ্যাস সংযোগের রমরমা বাণিজ্য। ভুক্তভোগী শহরবাসীর অভিযোগ, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক শ্রেণির ঠিকাদার মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ লাইন বসিয়ে আসছেন। অথচ এই অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা তো দূরের কথা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন চোখ বুজে থাকার নীতিই অনুসরণ করছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, মাঝে মধ্যে কয়েকটি অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হলেও তা কেবল আইওয়াশ—লোক দেখানো অভিযান। মূল নেটওয়ার্ক অক্ষতই থেকে যাচ্ছে, আর সেই নেটওয়ার্কের কারনেই সঙ্কট দেখা দিয়েছে বৈধ গ্রাহকদের গ্যাস লাইনে।

দেড় যুগের অবৈধ বাণিজ্য, কোটি কোটি টাকার রাজস্ব লোপাট:

গত প্রায় দেড় যুগ ধরে চলা এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্যের ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা আজ পর্যন্ত কোনো ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেননি।

আরও উদ্বেগজনক হলো—এই দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছেও নীরব থাকেন।

ডিজিএমএর নীরবতা, সন্দেহের ঘন মেঘ:

গত ২৯ ডিসেম্বর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের ডিজিএম-এর কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়, তা হলো—

কেন এতদিনেও অবৈধ সংযোগ প্রদানকারী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

অবৈধ সংযোগ দেওয়া ঠিকাদারদের তালিকা তাদের কাছে আছে কি না?

নির্দিষ্ট তথ্য দিলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?

এই অনিয়মে অফিসের ভেতরের কেউ জড়িত থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন কি না?

এই প্রশ্নগুলোর একটিরও উত্তর দেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
এই নীরবতাই যেন জোরালোভাবে প্রমাণ করে—অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্যের পেছনে কেবল ঠিকাদার নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্রয়ও কাজ করছে

শহরজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট, জনজীবনে নাভিশ্বাস:

গত দুই মাস ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরজুড়ে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। বহু এলাকায় দিনের পর দিন চুলা জ্বলে না, কোথাও আবার চাপ এতই কম যে রান্না করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এনিয়ে প্রায় প্রতিদিনই শহরের কোথাও না কোথাও

সব মিলিয়ে শহরের সাধারণ মানুষ আজ দুই দিক থেকে বিপর্যস্ত—একদিকে অবৈধ সংযোগকারীদের লোভ, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততা।

প্রশ্ন একটাইকার স্বার্থে এই নীরবতা?

যে শহরে গ্যাস সংকট মানুষের নিত্যদিনের যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে, সেই শহরেই বছরের পর বছর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলতে পারে—এটা কি কেবল অব্যবস্থাপনার ফল? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো দুর্নীতির চক্র?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ আজ জানতে চায়—
অবৈধ গ্যাস লাইনের দায় কার?
ঠিকাদারদের অপরাধের দায় কি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এড়িয়ে যেতে পারে?
আর এই নীরবতা কি সত্যিই কেবল দায়িত্বহীনতা, নাকি অপরাধের সাথে নীরব অংশীদারিত্ব?

গ্যাস সংকটের সমাধান চাইলে আগে এই প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে হবে—
নচেৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চুলা নিভেই থাকবে, আর দুর্নীতির আগুন জ্বলতেই থাকবে।

নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবীতে  আন্দোলন করা যুবক আরিফ  বিল্লাহ আজীজী, তিনি তেপান্তরকে জানিয়ছেন, মূলত অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারনেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া  শহরে তীব্র গ্যাস  সঙ্কট চলছে। আমরা মনে করি এই অবৈধ গ্যাস সংযোগের যেই দূর্নীতি হচ্ছে সেই দূর্নীতির  সাথে বাখরাবাদের কর্মকর্তারা জরিত। শুধু তাই নয়,  বাখরাবাদ ফিলিং স্টেশনেও অবৈধ ভাবে গ্যাস বিক্রি করছে। যার ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বাসিন্দারা চরম গ্যাস সঙ্কটে ভুগছেন।

এবিষয়ে বিস্তারিত থাকছে আগামী পর্বে।

চলবে…

 

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array