তেপান্তর রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণ তে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কোনো ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা। মাঝে-মধ্যে তারা গ্রেফতার হলেও জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তারা আরও ব্যপক পরিসরে শুরু করছে মাদক ব্যবসা। শুধু তাই নয়, এদের অনেকে আবার গোকর্ণ টু সিতারামপুর রোডে চুরি-ছিনতাইয়ের সাথেও জরিত। বিশেষ করে নূরু ও আনোয়ার চোর-ছিনতাইকারীদের গডফাদার। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর জুড়ে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবার প্রবাহ বেড়েছে। ইয়াবার স্রোত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে করে বাড়ছে চুরি,ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ।
সাম্প্রতিক সময়ে গোটা শহরে ইয়াবার থাবা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রশাসন, সীমান্তপ্রহরী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও ইয়াবার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ছাত্রছাত্রী, তরুণ-তরুণী ও উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা ইয়াবার আগ্রাসনের বেশি শিকার। রাত জেগে অভিসার, সাময়িক যৌনফুর্তি ও আনন্দের রঙিন স্বপ্নের মোহ তাদের হাতছানি দেয়। অনেক তরুণী স্লিম হওয়ার আগ্রহে ইয়াবা সেবন করে। কারণ, ইয়াবা ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। অনেকেই জানে না এর প্রতিক্রিয়া কত মারাত্মক ও ভয়াবহ।
সূত্র মতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইয়াবাসেবীদের সংখ্যা কয়েক হাজার। মাদকসেবীদের ৭০ শতাংশই ইয়াবা আসক্ত। আর এদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশই তরুণী ও যুবতী।
নিচে শুধু গোকর্ণএলাকার ইবাবা ব্যবসায়ীদের তালিকা দেওয়া হলো:
১. চম্পা বেগম। জেলার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। স্বামী মনির হোসেন। এলাকা গোকর্ণ। তার স্বামী পেশায় ছিলেন- নাপিত, মাঝে মধ্যে রিক্সাও চালতো। গত ৮/১০ বছর আগে ওরা গোকর্ণ ঘাট মধ্যপাড়ার ফরিদ মিয়া ( ওরফে কাবলী ফরিদ মিয়ার বাড়িতে ৫০০/ টাকা মাসে ভাড়া বাসায় থাকত । সেখান থেকেই স্বামী/স্ত্রী উভয় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে । ইতিমধ্যে তারা বেশ কয়েকবার মাদক নিয়ে ধরা খেয়ে জেলও খেটেছে । প্রথম পৈরতলা থেকে ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করত, পড়ে চট্রগ্রামের এক ব্যবসায়ীর সাথে পরিচয় হয় ” সেখান থেকে ঢাকা ইয়াবা পাচার শুরু করে এক পর্যায়ে ঐ ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকার ইয়াবার চালান মেরে দিয়ে নিজেই বনে যান ইয়াবার ডিলার। স্বামী মনির প্রতিদিন সন্ধ্যার পর গোকর্ণ ঘাট থেকে শালগাও-কালিসীমা হয়ে নরসিংসার দামচাইল সড়কে ইয়াবা পাচার করে থাকে । গত ৮/১০ বছরে এই দম্পতি শূন্য থেকে ১৫/২০ কোটি টাকার মালিক বনে গেছে বলে জানা গেছে । নামে বেনামে ক্রয় করেছেন ৭/৮ টি বাড়ি ও জমি জমা। গত মাসে গোকর্ণ ঘাট বাজারে কিনেছে একটি দোকান, চম্পা জেলার শীর্ষ একজন মাদক সম্রাজ্ঞী হিসাবে পরিচিত। ৪ দিন আগেও সেনাবাহিনী তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল। চম্পার ইয়াবা সম্রাজ্য গোকর্ণ ঘাট থেকে শুরু হয়ে নবীনগর, ভৈরব, বাঞ্ছারামপুর ও নরসিংদীতে বিস্তার লাভ করেছে। তার ৮/১০ জন নারী সাপ্লাইয়ার রয়েছে। তার রয়েছে একটি চোর চক্র। এখন সে ইয়াবা নিজের ঘরে না রেখে টাকার বিনিময়ে পাশের বিভিন্ন ঘরে রাখে।
২. মোঃ হেলাল উদ্দিন- পিতা মৃত মোঃ জলিল মিয়া-গ্রাম-ও ডাকঘর- গোকর্ণ ঘাট (মধ্যপাড়া) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর । গোকর্ণ ঘাট বাজারে তেলের দোকানের আড়ালে করে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা – তার নামে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে ।
৩. মোঃ নুরু মিয়া –পিতা মৃত মন মিয়া(ওরফে বাঘা মন মিয়া) গ্রাম-ও ডাকঘর- গোকর্ণ ঘাট (মধ্য-পশ্চিমপাড়া নবীনগর সড়কে ঊঃ পাশে)ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর । পেশায় ছিলেন অটো বাইক চালক, ৪/৫ বছর ধরে পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী । তার রয়েছে একটি মোবাইল চোর চক্র । পুলিশকে ম্যানেজ করে চলায় তার ব্যবসা, আদৌ গ্রেপ্তার হয় নি সে । এখন সে ব্যবসার ধরন পালটেছে ” রাতে তার বাড়ির বিপরীতে তিতাস নদীর পাড়ে মাছ শিকারের ছলে রাত ভর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইয়াবা বিক্রি করে থাকে। সে এখন গোকর্ণ ঘাট সহ পশ্চিম এলাকার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী, একবার গ্রেপ্তার হয়ে ৩ মাস জেলে ছিল।
৪. মোঃ কাজল মিয়া ,পিতা কোরবান আলী- গ্রাম-ও ডাকঘর- গোকর্ণ ঘাট (দঃপাড়া)মাদ্রাসা মসজিদের পশ্চিম পাশের বাড়ী-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর। বর্তমানে সে ছয়বাড়িয়ায় বসবাস করে পেশায় ছিলো অটো চালক। ৭/৮ বছরে হয়ে উঠেছেন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী , এছাড়া ও সে একজন পেশাদার ছিনতাইকারী, তার নামে একাধিক মাদক ও ছিনতাই এর মামলা চলমান রয়েছে। সে আনোয়ারের অন্যতম সহযোগী ।
৫. মোছাৎ সেতারা বেগম, পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী- জন্মস্থান শহরের কান্দিপাড়া (মাইমল হাটি) স্বামী-মোঃ সাত্তার মিয়া-গ্রাম-ও ডাকঘর-গোকর্ণ ঘাট (দঃপাড়া) মাদ্রাসার ৩ বাড়ি পশ্চিমে, সদর । এখন সে গোকর্ণ ঘাট মধ্যপাড়াস্থ আওয়ামীলীগ নেতা নাজির মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় থেকে ইয়াবা বিক্রি করে থাকে। সে ( চম্পার অন্যতম সহযোগী)
সে ৩০/৪০ লাখ টাকায় একটি রেডিমেড বাড়ি ক্রয়ের জন্য চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে । তার বেশ কয়েকজন ছেলে ও মেয়ে সহযোগী রয়েছে। যারা বিভিন্ন স্থানে কমিশনের ভিত্তিতে ইয়াবা পাচার করে থাকে।
৬. বাবু- পিতা ইউনুছ মিয়া, গ্রাম-আমিনপুর-(মনুর গোষ্ঠির হুমায়ন কবিরাজের পুরাতন বাড়ির পাশে) ডাকঘর-গোকর্ণ। সাবেক গ্রাম-কাইতলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পেশায় ছিল অটো চালক। এখন পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী ও চোর। গত কয়েক মাস আগেও গোকর্ণ ঘাট বাজারে চুরি করে ধরা পড়ে জেল খেটে এসেছে ।
৭. মোঃ আনোয়ার হোসেন, পিতা মৃত মোঃ লাহু মিয়া- গ্রাম-ও ডাকঘর- গোকর্ণ (দঃপাড়া) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর । সে একজন ইয়াবার এজেন্ট । ইয়াবা সহ আটক হয়ে জেল খেটেছে । এই চক্রে আরো বেশ কয়েক জন তার সাথে জড়িত আছে। সে প্রতিদিন রাত ১০/১১ টার মধ্যে কোনদিন মোটর সাইকেল যোগে আবার কোনদিন পায়ে হেটেই ইয়াবা নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়ে। সে গোকর্ণ থেকে কৃষ্ণনগর সড়কে সেখানে থাকা তার ইয়াবা এজেন্টদের কাছে ইয়াবা পোঁছে দিয়ে টাকা নিয়ে রাত ৩/৪ টা সময় বাড়ি ফিরে । সে এলাকার একজন ভয়ংকর অপরাধীও বটে । ২মাস আগেও সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। ছাড়া পেয়ে আবার ইয়াবা ব্যবসা শুরু করেছে। ওর রয়েছে চোর, ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের একটি চক্র । গোকর্ণ – পৈরতলা ও গোকর্ণ – নবীনগর রোডে যে চুরি ছিনতাই হয় এই সব চোরাই মোবাইল, মোটরসাইকেল সব এই নুরু ও আনোয়ার এর হাতে জমা হয় ।তার নামে একাধিক মাদক মামলা চলমান রয়েছে। তার কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে বলে জানা যায়। এখন সে আরো বেপরোয়া।
৮. মোঃ শাহিন মিয়া, পিতা- মৃত এলাই মিয়া, গ্রাম – গোকর্ণ মধ্যপাড়া- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর । এক সময় সে অটোবাইক চালক ছিল, গত ৪/৫ বছর যাবত পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী বনে গেছে ।
৯. মোঃ সুমন মিয়া-পিতা-মোঃ ইয়াকুব আলী (ওরফে ইক্কু মিয়া ) -গ্রাম-ও ডাকঘর- গোকর্ণ ঘাট (দঃপাড়া বাহার মিয়ার বাড়ির দঃ পাশে) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর । সে একজন পেশাদার গাঁজা ও ইয়াবা ব্যবসায়ী । ব্যবসার স্থান –গোকর্ণ ঘাট বাজার ও লঞ্চঘাট তার আশ পাশ ও বর্মণ পাড়ায়।
১০. মোঃ নুরে আলম – পিতা – মোঃ ইয়াকুব আলী ( ওরফে ইক্কু মিয়া) সে দেশ বিদেশে অনেকের টাকা পয়সা মেরে পালিয়ে ছিল অনেক দিন. বিদেশে অনেকের টাকা মেরে দেশে পালিয়ে এসে প্রতারণার মামলায় প্রায় এক বছর জেল খেটেছে – বর্তমানে এখন এলাকার একজন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত । ২০২৩ সালের পর থেকে সে এখন প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে চলছে। পুলিশ তাকে বেশ কয়েকবার আটক করলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে থানায় যাওয়ার আগেই ছাড়া পেয়ে গেছে।
১১. রাহিম, পিতা -ফরিদ মিয়া, গ্রাম- গোকর্ণ ঘাট মধ্যপাড়া- ( রিফজীপাড়া) সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
সে একজন অটোচালক ছিল – গত ৪ বছর ধরে একজন পেশাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী বনে গেছেন প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার ইয়াবা বিক্রি করে থাকে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতাদের ম্যানেজ করেই ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দিনদিন সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তারা প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics