Tepantor

বিজিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা আন্তুর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আবেদন

12 January, 2026 : 1:51 pm

তেপান্তর রিপোর্ট | হবিগঞ্জ।

২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়েনের সিইও ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল জব্বার সহ এগারো জন বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের আদালতে দায়ের করা একটি পিটিশন মামলা আন্তুর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে এই আবেদন করা হয়েছে। গত বছরের ৩১ জুলাই হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের কালির বাজার এলাকার শাহানা গ্যাস হাউস নামে একটি দোকান থেকে সাজ্জাদ আলী নয়ন (২৯) নামে এক যুবককে আটক করে বিজিবি। পরে আরও কয়েকজনকে আসামী করে মাদক ও অস্ত্র মামলা দেয় বিজিবি। অভিযোগ আছে সেই মামলাটি মিথা ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। পরে সাজ্জাদ আলী নয়ন জামিনে বের হয়ে এর প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের বিশেষ জজ আদালতে বিজিবি’র সিইও ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল জব্বার সহ এগারো জন বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা আসামী থাকায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলাটি আন্তুর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার আবেদন করেন আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি, যিনি বিজিবি কর্তৃক দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামী। তিনি মাধবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সাদেকুল ইসলামের ছেলে।

এবিষয়ে সচিবালয়, উপদেষ্টা, মানবাধিকার কমিশন সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।

পিটিশন মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে যে, বিগত ৩০/০৭/২০২৫ তারিখে সকাল অনুমান সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার ১ নং ধর্মঘর ইউপি’র কালির বাজারে অবস্থিত অভিযোগকারীর শাহনা গ্যাস হাউস নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেআইনি ভাবে আটকের ঘটনা ঘটে । পরবর্তীতে সরাইল বিজিবি কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

আরও বলা হয়, ১ নং আসামি কর্নেল জব্বারের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামিরা নয়নের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে । এ সময় ২ ও ৩ নং আসামী জোরপূর্বক ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ১৫,০০,০০০/- (পনের লক্ষ) টাকা অসৎ উদ্দেশ্যে চুরি করে নিয়ে যায় ।

অভিযোগ আছে, বিজিবি সদস্যরা অভিযোগকারী সাজ্জাদ আলী নয়ন এবং আব্দুস সামাদ জাবেদ-কে মাদক ও অস্ত্রবিহীন অবস্থায় গ্রেপ্তার করে । নয়নকে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে, হাতকড়া লাগিয়ে রশি দিয়ে পিঠমুড়া করে বেঁধে বিতর্কিত ঘটনাস্থলে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় , যেখানে মাদক ব্যবসা বা সেবন হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিজিবি সদস্যরা নয়ন সহ সকল ভুক্তভোগীকে বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে একটি কক্ষে ২৪ ঘণ্টার অধিক সময় আটক রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। কর্নেল জব্বার আহমেদ নিজে বালতি ভরা পানিতে নয়নের মাথা ডুবিয়ে এবং বুট জুতা দিয়ে পাড়া মেরে নয়নকে আঘাত করেন । ২ নং আসামী সুবেদার মোহাম্মদ ফুরকান উদ্দিন অভিযোগকারীর বুক বরাবর সজোরে লাথি মারলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ।

পরে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এবং অস্ত্র আইনে মাধবপুর থানায় মামলা নং ৫৯, তারিখ ৩১/৭/২০২৫ ইংরেজি, (জিআর নং ৩২৩/২৫) দায়ের করেন । অভিযোগকারী উল্লেখ করেন, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘটনাস্থল সম্পর্কে তথ্য গোপন করেছেন এবং জব্দ তালিকাও মিথ্যা ।

মারাত্মকভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর অভিযোগকারী চিকিৎসা গ্রহণ করে কিছুটা সুস্থ হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় এই পিটিশন দাখিল করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ্য আছে।

অভিযুক্তরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী হওয়ায় থানায় সুবিচার পাওয়া যাবে না—এই আশঙ্কা করে তিনি “নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫(১) (২) (৩) (৪) তৎসহ পেনাল কোডের ৩৭৯/৩৮০/৩৫৪/৫০৬(২)//৩৪ ধারায়” মামলা দায়েরের অনুরোধ জানিয়েছেন ।

এ ব্যাপারে গত ২৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পত্রিকার পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ২৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জব্বার আহমেদ জানান, এটি মিথ্যা, ভূয়া ও সরকারি কাজকে বাধাগ্রস্থ করতে এই অভিযোগটি করা হয়েছে।

Tepantor

তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Array