তেপান্তর রিপোর্ট:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে গ্রাম। প্রতিপক্ষের হামলায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনায় গ্রামজুড়ে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, হামলাকারীদের ভয়ে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি ধরমন্ডল ইউনিয়নে সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মেম্বার ও কুতুবউদ্দিনের গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে জিতু মেম্বার নিহত হন। ওই একই ঘটনায় গুরুতর আহত খলিল মিয়া (৩৫) গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে।
খলিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর গোষ্ঠীর লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে কুতুবউদ্দিনের পক্ষের অন্তত সাত-আটটি বাড়িতে একযোগে হামলা চালায়। হামলাকারীরা শাহীন মিয়া, আমির আলী ও শিশু মিয়াসহ অন্যদের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। অভিযোগ উঠেছে, খুনের ঘটনার পর থেকে গ্রামে শুরু হয়েছে ‘লুটপাটের মহোৎসব’।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জিতু মেম্বার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সুবারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে ইউপি সদস্য রাহেলা (৪৫) ও তাঁর মেয়ে লাইজুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে ধরমন্ডলে। পুরুষশূন্য গ্রামটিতে কেবল লুটপাটের চিহ্ন পড়ে আছে। খুনের মামলার আসামিদের ধরার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তেপান্তরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
ArrayCopyright © 2026 তেপান্তর | Design & Developed By: ZamZam Graphics